দেশের খবর - ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯

ধীরগতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মান কাজে, জিওটেক্সটাইল ক্লোজার বাঁধে স্থাপন হচ্ছে না

এখনো প্যালাসাইটিং এর কাজ শেষ হয়নি তাহিরপুরে বৃহৎ ৩ হাওরের ৯ ক্লোজার বাঁধে। দু’একটি ক্লোজার বাঁধে নাম মাত্র বস্তা-বাঁশ দিয়ে কাজ শুরু হলেও বাঁধে জিওটেক্সটাইল ব্যবহার না করায় হাওরের গুরুত্বপূর্ন বাঁধ গুলো ঝুঁকিতেই রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ তাহিরপুর উপজেলা পার্শ্ববর্তী উপজেলা জামালগঞ্জ। সে উপজেলার হালি হাওর,পাগনা হাওর সহ সবকটি হাওরের গুরুত্বপূর্ণ বাঁধের প্রকল্প কর্মকর্তারা তাদের বাঁধ রক্ষনাবেক্ষনের জন্য জিওটেক্সটাইল ব্যবহার করছেন। তারা আরো বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মাণ কাজের শেষ সময়সীমা। সময় মাত্র আছে ১৪ দিন। এ পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৪০ ভাগ।

কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন এ পর্যন্ত ৬০ ভাগ কাজ হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় তাহিরপুর উপজেলায় ২৩ টি ছোট বড় বোর ফসলি হাওর রয়েছে। এর মধ্যে শনি,মাটিয়ান ও মহালিয়া বৃহৎ বোর ফসলি হাওর। উপজেলার ২৩ হাওরে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোর ধান চাষাবাদ হলেও এ তিন হাওরে বোর ধান চাষাবদ হয় প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর। আর এ তিন হাওরে ৯ টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে শনির হাওরে রয়েছে সাহেব নগর । মাটিয়ান হাওরে রয়েছে মেশিন বাড়ি, আলম খালী,বনুয়া,পাঁচনালিয়া,জালহাটি,কাউকান্দি বাজার সংলগ্ন ক্লোজার বাঁধ সহ ৫ টি ক্লোজার বাঁধ এবং মহালিয়া হাওরে রয়েছে কালিবাড়ি ও গুরমা ক্লোজার বাঁধ সহ ২ টি ক্লোজার বাঁধ।

সরজমিন ৩ হাওরে উল্লেখিত বাঁধ গুলোতে গিয়ে দেখা যায়,কোনটির প্রকল্প কর্মকতারা বাঁধে সামান্য বাঁশ-বস্তা দিয়ে প্যালাসাইটিং এর কাজ শুরু করছেন। এখনো কোন একটি বাঁধের কাজ পরিপূর্ণ ভাবে শেষ করতে পারেনি কোন পিআইসি। সেই সাথে ধীর গতিতে রয়েছেই। এ ভাবে ধীর গতিতে বাঁধের কাজ করলে আগামী চৌদ্দ দিনের মধ্যে প্রকল্প পিআইসিরা বাঁধে কাজ শেষ করতে পারবে কিনা বলা মুশকিল। অথচ ২৮ ফেব্রæয়ারীর মধ্যে সকল বাঁধের কাজ সমাপ্ত করার কথা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ বৃষ্টি বাদল শুরু হওয়ার আগে বাঁধের কাজ শেষ না করতে পারলে তা দিন দিন আরও হুমখিতে পড়বে।

মাটিয়ান হাওর উপ-প্রকল্পের বনুয়া (চিলান তাহিরপুর) ক্লোজার বাঁধ প্রকল্প কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, প্যালাসাইটিং এর কাজ এখনো শেষ করতে পারিনি,আরও কয়েক দিন লাগবে।

মাটিয়ান হাওর পারের গ্রাম রতনশ্রী গ্রামের কৃষক রবি মিয়া বলেন, হাওরের গুরুত্বপূর্ন ক্লোজার বাঁধগুলোতে বেশী করে বাঁশ-বস্তা দিয়ে কাজ করা দরকার। না হলে মেঘ বৃষ্টির দিনে বাঁধ থেকে মাটি সরে যাবে।

শনির হাওর পার বীরনগর গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন,জেলার বোর ফসল উৎপাদনের দিক দিয়ে শনির হাওর প্রথম কিন্তু এ হাওরে কোন ক্লোজর বাঁেধ জিওটেক্সটাইল ব্যবহার হচ্ছে না। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জামালগঞ্জ উপজেলায় অনেক ছোট-ছোট হাওরের ক্লোজার বাঁধে জিওটেক্সটাইল ব্যবহার করে প্যালাসাইটং এর কাজ করছেন প্রকল্প পিআইসিরা।

মাটিয়ান হাওর উপ-প্রকল্প মেশিন বাড়ির ক্লোজার বাঁধ ৬৩ নং প্রকল্প কমিটির সদস্য সচিব সাঞ্জব উস্তার নাসিম বলেন, আমরা বাঁশ-বস্তা দিয়ে কাজ শুরু করেছি। আমাদের বাঁধে জিওটেক্সটাইল ধরা আছে। আপাতত প্যালাসাইটিং এর কাজ করছি । পানি উন্ন্য়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করে জিওটেক্সটাইল স্থাপন করবো।
শানির হাওর পাড়ের কৃষক অরুন চন্দ বলেন,ক্লোজার বাঁধগুলোতে এখনই জিওটেক্সটাইল স্থাপন করতে হবে। তিনি আরো বলেন,যে কোন সময় পাহাড়ি ঢল এসে বাঁধের গুড়ার উপরে পানি উঠে যাবে। তখন আর নিখুঁতভাবে জিওটেক্সটাইল স্থাপন করা যাবে না। নির্মাণ করা বাঁধটি থাকবে হুমকির মূখে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড উপ প্রকৌশলী এমরান হোসেন এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, কিছু কিছু ক্লোজারে জিও টেক্সটাইল ধরা হয়েছে। যেগুলেঅতে ধরা হয়েছে সেগুলোতে স্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য,আজ ১৫ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সকাল ৯টয় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ার হাওরে আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি।

চলতি বছর তাহিরপুর উপজেলায় শনি,মাটিয়ান,মহালিয়া সমসা,চুনখলা হাওর সহ ২৩ টি ছোট বড় হাওরে ৬৬ টি বাধে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্ধ প্রদান করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারী মাসের ২৮ ফ্রেবুয়ারীর মধ্যে সবগুলো বাঁধের কাজ শেষ করার কথা।


আরও পড়ুন