সুনামগঞ্জের ছাতক বেড়েছে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ, দাম পাচ্ছে না কৃষক

আরিফুর রহমান মানিক , ছাতক । সুনামগঞ্জ
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯ ৮:২৮ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জের ছাত‌ক উপজেলা বাড়ছে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ। সময়ে, শ্রম ও খরচ কম হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে এ সবজির আবাদ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষীরা। পা‌নির অভা‌বে প্রায় ৮ শতা‌ধিক  মিষ্টি কুমড়ার চারা নষ্ট হ‌য়ে গে‌ছে।  মিষ্টি কুমড়ার চারা গু‌লো হঠাৎ ক‌রে লাল বর্ন হ‌য়ে ম‌রে  যাওয়ায় এখানকার সব‌জি চাষীর ম‌ধ্যে হাহাকার দেখা দেয়। লা‌ভের আশা মুলধন হা‌রি‌য়ে‌ছে । 

উপ‌জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ৩৬ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে এ উপজেলা শতা‌ধিক হেক্টর উপজেলায় কমবেশি মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়।

মিষ্টি কুমড়া একটি সুস্বাদু সবজি এবং সারা বছরই পাওয়া যায়। এর ডগাও পুষ্টিকর খাদ্য। মিষ্টি কুমড়ার বীজ বোনার সময় শীতকালীন ফসলের জন্য অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এবং গ্রীষ্মকালীন ফসলের জন্য ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত। ছাতক উপজেলার কালারুকা  ইউনিয়ন সবজি এলাকা হিসেবে প‌রি‌চিত । মৌসুমি সবজি আলু, পটল, সীম, বেগুন, লাউ, কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, করলা, ঢেড়সসহ বিভিন্ন শাক-সবজির আবাদ হয়ে থাকে। মৌসুম ভিত্তিক ফসল চাষের জন্য কৃষি অফিস থেকে কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষে উদ্ধুদ্ধ করা হচ্ছে চাষিদের। সময়, শ্রম ও খরচ কম হওয়ার ফলে প্রতি বছরই বাড়ছে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ।

উপজেলার কালারুকা ইউ‌নিয়‌নের হরিষপুর  গ্রামের মৃত কালা মিয়ার পুত্র বতুললা মিয়া জানান, সরকা‌রি ভা‌বে কোন সাহাষ্য সহ‌যো‌গিতা পে‌লে আ‌রো বৃ‌দ্ধি কর‌তে পাব‌রে । সরকা‌রি সহ‌যো‌গিতা ছাড়াই  নিজ উ‌দ্দ্যো‌গে সুরমা নদীর পা‌ড়ে প্রায় ৪ কেদার  জমিতে ১হাজার ২শ’ মিষ্টি কুমড়ার গাছ আবাদ করেছি। পা‌নির অভা‌বে প্রায় ৮শতা‌ধিক মিষ্টি কুমড়ার গাছ নষ্ট হ‌য়ে গে‌ছে । হাল চাষ, সার, ওষুধ ও মাঁচাসহ আনুষঙ্গিক খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪০ হাজার টাকা। আর বিক্রি করেছি ১২ হাজার টাকা। সব‌জি চাষাবাদ ক‌রে ১০জ‌নের প‌রিবার প‌রিজন নি‌য়ে জীবন জী‌বিকা চালা‌চ্ছেন কৃষক বতুললা। সব‌জি চা‌ষিরা কোন ফসলের ন্যায্য দাম পাইনা। আমরা যে মিষ্টি কুমড়া ৮-১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি সেখানে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে। কৃষকের চাইতে ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হয়। সবজিতে সরকার নজরদারী বাড়ালে কৃষকরা ন্যায্য দাম পেতাম এবং কিছুটা লাভবান হতে পারতাম। পাইকারি দরে ৮-১০ টাকা কেজিতে প্রতিটি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। দাম আরেকটু বেশি হলে আমাদের জন্য সুবিধা হত। তবে সময়, শ্রম ও খরচ কম হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে এ সবজির আবাদ। দাম ভাল পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে আরও আবাদ বৃদ্ধি পাবে।

গো‌বিন্দগঞ্জ বাজার পাইকারি ব্যবসায়ী কামাল আহমদ বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া আড়তে নিয়ে আসে। এ এলাকার উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া সুস্বাদু থাকায় ক্রেতাদের কাছে চাহিদাও বেশি। এখান থেকে প্রতি সপ্তাহে ১৫ -২০ মেট্রিকটন মিষ্টি কুমড়া ছাতক থে‌কে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সহ প্র‌কৌশলী শা‌মিম আহমদ বলেন, মাটিতে লাউ নষ্ট হওয়ায় এ বছর থেকে মাঁচা করে আবাদ করছেন চাষীরা। মিষ্টি কুমড়ার আবাদে সঠিক সময়ে পরাগায়ন হলে উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। মৌসুম ভিত্তিক ফসল চাষের জন্য কৃষি অফিস থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ প্রদান করা হয়। ফলে কৃষকদের মাঝে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া