দেশের খবর - ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯

যৌতুকলোভী স্বামী; জলঢাকায় সংসার করতে পারছেনা শারমিন

নীলফামারীর জলঢাকায় যৌতুক লোভী স্বামীর কারণে সংসার করতে পারছেনা শারমিন নামে এক গৃহবধু।সে উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গোপালঝাড় গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে।দফায় দফায় শ্বশুর বাড়ীর টাকার চাহিদা মিটাতে না পারায় নির্যাতনের শিকার শারমিন। আর এর মূল মদদ দাতা শ্বশুর আলমগীর মাষ্টার।এসব অভিযোগ করে জলঢাকা থানায় একটি নির্যাতন মামলা করেছে ওই গৃহবধু।অভিযুক্ত ওই মাষ্টার উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের নেকবক্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।সংসার করার আশা নিয়ে তাই সে বিচারের আশায় সবার দারে দারে ঘুরছে। শ্বশুর পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা করেও বিপাকে পরেছে সে। মামলা তুলে নেওয়াসহ প্রাণনাশেরও হুমকী দিচ্ছে তারা।

শারমিনের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২০১৫ সাল হতে রংপুরে লেখাপড়া অবস্থায় একই গ্রামের আলমগীর হোসেন মাষ্টারের ছেলে আবু সুফিয়ানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয়।এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক সময় তাদের বিয়ে হয়।অভিযোগে আরও জানা যায়, বিয়ের পর সুফিয়ান পাঁচ লাখ টাকা দাবী করে তার কাছে।বিষয়টি পরিবারের নিকট অবগত করে শারমিন।এবং পরিবার ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে চার লাখ টাকা সুফিয়ানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।নির্যাতিতা শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, ২৬জুন/১৮ নোটারী পাবলিক কার্যালয় রংপুরে বিবাহ এফিডেফিডের ঘোষণাপত্র রেজিস্ট্রি করে বিয়ে হয়। সে সময় থেকে শুরু হয় তার টাকার চাহিদা।পরিবারের উপস্থিতিতে চার লাখ টাকা দিলেও পরবর্তীতে আরও তিন লাখ টাকা দাবি করে। তার পরিবারের দাবির মুখে ও সংসার টিকে রাখার জন্য আরও দুই লাখ টাকা নগদ দেওয়া হয়। নির্যাতিতা শারমিন আরও জানায়, শ্বশুর বাড়ীর চাহিদা মিটিয়ে সংসার জীবন শুরু করলে সময়ে অসময়ে নেমে আসে নির্যাতনের ঝড়।শ্বশুর-শাশুড়ীর কথামতো দফায় দফায় যৌতুক দাবি করে আমার উপর শারীরিক নির্যাতন চলে।এমনকি বহিরাগত লোকজন দিয়েও আমার উপর নির্যাতন চালায়।

সম্প্রতি অভিযুক্ত আবু সুফিয়ানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি আদালতে আছেন বলে জানান।

এদিকে অপর অভিযুক্ত আবু সুফিয়ানের বাবা নেকবক্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর মাষ্টার তার ছেলের সাথে বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন প্রয়োজনে মেয়েকে বাদ দিয়ে আলোচনা হতে পারে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আব্দুর রশীদ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।


আরও পড়ুন