বোনের দেহের পাশে জেগে রক্তাক্ত আসিল

চলছে অবিরাম শেলিং, বিমান হামলা। ধসে গিয়েছে বাড়ি। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই বোনের নিথর দেহ পাশেই পড়ে রয়েছে আতঙ্কে ভরা দু’টো নিষ্পাপ চোখ। ধুলো-ইঁট, সূরকির গুঁড়োতে ঢেকেছে নীলচে সোয়েটার। হাত-মুখ ভাসিয়ে দেওয়া রক্ত শুকিয়েছে মুখেই। স্থির দু’চোখ আতঙ্ক আর শূন্যতায় ভরা।

মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কের সীমান্ত সংলগ্ন খান খান শাইখুন শহরে সরকারি বাহিনী সেখানে হামলা চালানোর সময় বিল্ডিং ধসে পড়ে। এসময় ধ্বংসস্তুপের ভিতর এভাবেই পড়ে থাকতে দেখা যায় আসিল কাতরান নামে শিশুটিকে। ছোট্ট এই কাতরানকে ধ্বংসস্তুপ থেকে উদ্ধার করে উদ্ধারকারীরা।

এদিকে ব্রিটিশ যুদ্ধপর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়া অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, বিদ্রোহীদের দখলে থাকা উত্তর পশ্চিম সিরিয়ায় তুরস্ক সংলগ্ন খান শাইখুন শহরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সেনাবাহিনী কর্তৃক নিত্যদিনের বলির শিকার হয় সাধারণ বাসিন্দারা। সরকারি বাহিনীর এমন অতর্কিত হামলা সহ্য না করতে পারায় সেখান থেকে হাজার হাজার বাসিন্দা এলাকা ছাড়ছেন।

তবে এ তো গেল ভয়াবহতার একটা দৃশ্য। একটু চোখ ফেরালেই দেখা যাবে একরত্তি সন্তানের দেহখানা বুকে চেপে হাহাকার করছেন বাবা। মর্গে নিয়ে যাওয়ার আগে নিথর পা দু’টো নিজের মুখে চেপে ধরছেন সন্তানহারা পিতামাতা। এমনই অসংখ্য টুকরো টুকরো করিজারই নাম এখন খান শাইখুন শহর।

বিভিন্ন বিশ্ব গণমাধ্যমে জানা গেছে, ইদলিব ও উত্তর সিরিয়া সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই ১৩টি বিমান হামলা চালিয়েছে সিরীয় সেনা। গত দশ দিন ধরে উত্তর পশ্চিম অংশে লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সিরীয় সেনা। চলছে অবিরাম শেলিং, বিমান হামলা।

এদিকে সিরিয়ায় আসা ব্রিটেনের মানবাধিকার পর্যবেক্ষক দলের ডিরেক্টর রামি আবদুল রহমান জানান, দামেস্ক ও আলেপ্পো আন্তর্জাতিক রোড-কে নিশানা করেই বেশি বোমা ফেলছে আসাদ সরকার বাহিনী। আর এ সবের জেরে খান শাইখুন এখন ভুতুরে শহর।

সিরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, হামা প্রদেশের উত্তর অংশের বেশ কয়েকটি শহরে রকেট ছোড়ে বাহিনী। যার জেরে অনেক মানুষ বলির শিকার হয়েছে।

উত্তর পূর্ব দিকে ইদলিবে ভারী অস্ত্র ব্যবহারের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সিরিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল। তবে সে চুক্তি ভেঙে বারবারই আঘাত হেনেছে আসাদ বাহিনী। এ নিয়ে মস্কোও বেশ কয়েক বার অভিযোগ তুলেছে।

উল্লেখ্য, আসাদ সরকারের অবিরাম শেলিং বিমান হামলায় চলতি সপ্তাহে কমপক্ষে তিন শিশু-সহ পাঁচ সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত কমপক্ষে অর্ধশতাধিক। তাদের মধ্যেই ছিল ছোট্ট আসিল কাতরান। উদ্ধারকারীরা তাকে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে বার করেন।


আরও পড়ুন