দেশের খবর - March 4, 2019

মাদক ও জঙ্গি নির্মূলে পুলিশ জিরো টলারেন্স : ময়মনসিংহে আইজিপি

মাদক ব্যবসায়ী, গডফাদার ও মাদকের সাথে সম্পৃক্তদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না মন্তব্য করে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, মাদক ছেড়ে কেউ যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে তাদের সুযোগ দেয়া হবে। আর মাদক ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জঙ্গি বিরোধী কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে। জঙ্গি ও মাদকের বিরুদ্ধে যেভাবে যুদ্ধ চলছে তা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে। এ জন্য পুলিশ জিরো টলারেন্সনীতিতে থেকে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ আবাস ভুমি গড়তে কাজ করে চলছে। ময়মনসিংহ শহরের সার্কিট হাউজ মোড়ে সোমবার পুলিশ অফিসার্স মেসসহ ৯টি বহুতল ভবনের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের সাথে তিনি এসব কথা বলেন । 

এসময় পুনাক সভানেত্রী ও আইজিপি প্রতীক  হাবিবা জাবেদ, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঁঝি, অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইকরামুল হক টিটু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বিভাগের চার জেলার পুলিশ সুপারসহ পুলিশ, র‌্যাব, পিবিআই,সিআইডির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। 

পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী আরো বলেন মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়নের ল্েয দেশে শান্তি শৃংখলা বজায় রেখে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে পুলিশ কাজ করছে। তাই মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশ জিরো টলারেন্স হিসাবে কাজ করছে। মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকের গডফাদার ও মাদকের সাথে জড়িতদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ ল্েয চট্টগ্রামে ১০২জন মাদক ব্যবসায়ী আত্নসমর্পণ করেছে। এভাবে মাদক ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে তাদের জন্য এ পক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে। 

আইজিপি ময়মনসিংহ জেলা ও রেঞ্জ পুলিশের উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি বহুতল ভবন উদ্বোধনসহ ৯টি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। প্রকল্পগুলো হলো, ৮ কোটি ১১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের নবনির্মিত অফিস (এসপি অফিস), ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে পুলিশ অফিসার মেস-১, ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পুলিশ লাইন্স ব্যারাক-২, প্রফেশনাল ইভালেশন সফটওয়ার (পিইএস) নামক একটি সফটওয়ার।  

এছাড়াও আইজিপি ডঃ জাবেদ পাটোয়ারী ১২ কোটি ৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫টি বহুতল ভবনসহ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। প্রকল্পগুলো হলো, ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয়ে পুলিশ লাইন্সে মাল্টি পারপাস ড্রিলশেড, ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুলিশ হাসপাতালের ডরমেটরী ভবন, ২ কোটি ৯৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে পুলিশ বেতার ভবন (টেলিকম ভবন), ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে পাগলা থানার অফিসার্স ডরমেটরী (ভবন), এবং ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে পাগলা থানার ওসির বাসভবন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। সার্কিট হাউজ মাঠ সংলগ্ন পুলিশ অফিসার মেস থেকে একযুগে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হয়। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করা হয়।
আইজিপি ময়মনসিংহ জেলা ও রেঞ্জ পুলিশের বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধনশেষে পুলিশ লাইন্স মাঠে বিকালে বার্ষিক পুলিশ সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতার উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করেন। এছাড়া সন্ধ্যায় পুনাক ময়মনসিংহের আয়োজনে পুলিশ পরিবারের কৃতি শিার্থীদের মাঝে শিা বৃত্তি প্রদান করেন।

এর আগে আইজিপি ময়মনসিংহে এসে উপস্থিত হলে, জেলা ও রেঞ্জ পুলিশের প ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে পুনাক ময়মনসিংহের শোরুম উদ্বোধন এবং বার্ষিক পুলিশ সমাবেশ ও ক্যীড়া প্রতিযোগীতা ২০১৯ উপভোগ এবং পুরস্কার বিতরণ শেষে নৈশ্যভোজে মিলিত হন।


আরও পড়ুন