দেশের খবর - মার্চ ৬, ২০১৯

তাহিরপুরের মাহারাম নদীতে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে বাঁধ

তাহিরপুরের মাহারাম নদীতে চলছে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন। উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তে অবস্থান মাহারাম নদী।যাদুকাটা নদীর প্রশাখা মাহারাম নদী এক সময় বর্ষাকালে এ
নদীতে প্রবল ¯্রােত প্রবাহিত হতো। পূর্বে এক সময় চৈত্র বৈশাখ মাসে নদীতে পানি আসলে অকাল বন্যায় উপজেলার মাটিয়ান, সমসাসহ সীমান্তের সমস্ত ছোটবড় ফসলের হাওরগুলো পানিতে ডুবে যেতো। তখন উপজেলা পরিষদ হইতে অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষার জন্য মাহারাম নদীতে বেরীবাঁধ দেয়া হতো। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় পাহাড় থেকে নেমে আসা বালুও নুড়িপাথরে মাহারাম নদীটি ভরাট হওয়ায় এ নদীর উপর দিয়ে আশ্বিন কার্তিক মাস হতেই পায়ে হেটে নদী পারাপার হওয়া যায়। এ অবস্থা থেকে বিগত ২৫-৩০ বছর ধরে মাহারাম নদীতে আর বেরী বাঁধ দেয়া হতো না।

মাহারাম নদীর পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বালু উত্তোলনকারীরা মাহারাম নদী থেকে বালু উত্তোলন না করে তারা আধা কিলোমিটার পূর্ব থেকে অর্থাৎ যাদুকাটা নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে কোন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতো না।

সরজমিনে মাহারাম নদী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দিনে-দুপুরে মাহারাম নদীতে বালূ উত্তোলনে ব্যস্ত রয়েছে সীমান্ত এলাকার একটি অসাধু বালুখেকো চক্র। মাহারাম নদীতে কথা হয় বালু উত্তোলনকারী মানিগাঁও গ্রামের জাকির হোসেন ও নামপ্রাকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিকের সাথে।

তিনি বলেন,৭টি গ্রুপে দলবদ্ধ হয়ে প্রায় ৫শতাধিক নারীপুরুষ মিলে তারা বালূ উত্তোলন করছে। গ্রুপগুলোর মধ্যে রয়েছে মানিগাঁও গ্রামের আসাদ মিয়া,রইস মিয়া,মোহাম্মদ আলী ও দ্বীন ইসলাম। এই চার জনের গ্রুপে রয়েছে ১১০ জন নারী পুরুষ শ্রমিক।

৭০ জনের আর একটি গ্রুপে নেতৃত্বে রয়েছে মানিগাও গ্রামের মুক্তার আলী,নানু মিয়া ও খাসতাল গ্রামের মুক্তার মিয়া। ৬০ জনের আরেকটি দলে রয়েছে গুটিলা গ্রামের সামছু মিয়া মানিগাও গ্রামের হাসান মিয়া,আবুল কাশেম ও হাসেন আলী। ৫০ জনের আরেকটি দলে রয়েছে মানিগাও গ্রামের জাকির
হোসেন ও আবুল বাদশাহ।

এছাড়াও মানিগাঁও গ্রামের তোষা মিয়ার একটি গ্রুপে রয়েছে ৫০ জন,জিলু মিয়ার দলে রয়েছে ৬০ জন ও একই গ্রামের মধু মিয়ার দলে রয়েছে ৫৫জন।

মাহারাম নদী এলাকার সংশ্লিষ্ট উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, মাহারাম নদীতে যেভাবে বালু উত্তোলন চলছে এভাবে বালু উত্তোলন করতে থাকলে মাটিয়ান হাওরের
ফসল অকাল বন্যায় পানিতে ডুবে যাবে।

মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন ফোন করে তাকে জানিয়েছেন মাহারাম নদী থেকে একদল বালুখেকোচক্র
দিনেদুপুরে বালু উত্তোলন করছে। এভাবে বালু উত্তোলন করতে থাকলে মাটিয়ান হাওরসহ উপজেলার সকল হাওরগুলোর ফসল অকাল বন্যায় তলিয়ে যাবে।

শনিরহাওর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি বোরহান উদ্দিন চেয়ারম্যান বলেন, সরকার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মানের জন্য তাহিরপুরে এ বছর ১৪ কোটি টাকার কাজ করছে যাহা এখনো চলমান।

অন্যদিকে মাহারাম নদীতে একদল বালুখেকোচক্র দিনেদুপুরে বালু উত্তোলন করে উপজেলার সবগুলো হাওরকে ছুঁকিতে রাখছে। এ অবস্থা কখনো মেনে নেয়া যায় না। তিনি প্রশাসনের কাছে দাবী তুলে
ধরে বলেন, অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে অঅইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান।

বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আমির উদ্দিন বলেন, তিনি বর্তমানে ঢাকাতে অবস্থান করছেন। মাহারাম নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে তিনি ক্যাম্প থেকে পুলিশ পাঠাচ্ছেন।

তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ নন্দন কান্তি ধর বলেন, মাহারাম নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে উপেজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে নিয়ে মোবাইল কোর্ট করতে হবে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি জেনে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করেছি। যারা এ কাজে জড়িত আছে তা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরও পড়ুন