খেলার খবর - মার্চ ৬, ২০১৯ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের বিদায়

চ্যাম্পিয়নস লিগের এই মৌসুমে সবচেয়ে বড় অঘটনের শিকার হলো রিয়াল মাদ্রিদ। আয়াক্স আমস্টারডামের কাছে দ্বিতীয় লেগে বিধ্বস্ত হলো তারা। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মঙ্গলবার তাদের ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিলো ডাচ ক্লাব। দুই লেগে ৫-৩ গোলের অগ্রগামিতায় শেষ ষোলোতে তিনবারের টানা ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে ইতিহাস গড়লো আয়াক্স।

২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছিল রিয়াল। কেবল দুটি ম্যাচ হেরে এই মৌসুমেও তারা ছিল ফেভারিট। আয়াক্সের মাঠে আগের লেগ ২-১ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখে তারা। কিন্তু ডাচ ক্লাব চমকে দেয় তাদের। এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের ক্লাব ইতিহাসে ঘরের মাঠে সবচেয়ে বাজে হারের তেতো স্বাদ পায় মাদ্রিদ ক্লাব।

তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করতে দুসান তাদিচ করেন একটি গোল, বানিয়ে দেন দুটি। সের্হিও রামোস নিষিদ্ধ থাকায় রক্ষণের দুর্বলতাকে দারুণভাবে কাজে লাগায় আয়াক্স। যদিও লক্ষ্যে প্রথম শট নেয় স্বাগতিকরা। ৫ মিনিটের মধ্যে লুকাস ভাসকেসের বাড়িয়ে দেওয়া বলে হেড করেন রাফায়েল ভারানে, কিন্তু আঘাত করে ক্রসবারে।

দুই মিনিট পর এগিয়ে যায় আয়াক্স। রিয়ালের অগোছালো রক্ষণের সুযোগ নিয়ে ৭ মিনিটে গোলমুখ খোলেন হাকিম জিয়েখ। তাদিচের অ্যাসিস্টে প্রথম শটে স্কোর ১-০ করেন তিনি। ২০ মিনিট হওয়ার আগে আয়াক্স দ্বিতীয় গোলের দেখা পায়। ১৭ মিনিটে স্বাগতিকদের ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে বল বাড়িয়ে দেন তাদিচ। দাভিদ নেরেস দারুণ দক্ষতায় থিবো কোর্তোয়াকে বোকা বানিয়ে খালি জালে বল জড়ান।

ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে মরিয়া সান্তিয়াগো সোলারি ২৯ মিনিটে গ্যারেথ বেলকে চোট পাওয়া ভাসকেসের বদলি নামান। কিছুক্ষণ পরই পায়ের ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়েন রিয়ালের সম্ভাবনাময়ী খেলোয়াড় ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের জায়গায় নামেন মার্কো আসেনসিও।

এই দুটি পরিবর্তনেও স্কোর বদলায়নি রিয়ালের। ৪৩ মিনিটে বেলের শট লাগে গোলপোস্টে। পরের মিনিটে ডিবক্সের মধ্যে আয়াক্স খেলোয়াড়ের হ্যান্ডবল হওয়ায় জোর পেনাল্টির দাবি জানালেও প্রত্যাখ্যাত হয় রিয়াল। তাতে তাদের প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে।

দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন করিম বেনজিমা। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বাধা পেরোতে পারলেও তার আড়াআড়ি শট গোলপোস্টের পাশ দিয়ে যায়। রিয়ালকে হতাশ করে আবার এগিয়ে যায় আয়াক্স। ৬২ মিনিটে ফন দি বিকের বানিয়ে দেওয়া বলে ১৮ গজ দূর থেকে নেওয়া শটে তৃতীয় গোল করেন তাদিচ।

৮ মিনিট পর লক্ষ্যভেদী শটে রিয়ালকে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন আসেনসিও। কিন্তু ৭২ মিনিটে অবিশ্বাস্য ফ্রি কিক গোলে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নদের সব সম্ভাবনা শেষ করে দেন লাসে স্কোনে।
এই হারে ২০১০ সালের পর প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারলো না রিয়াল। রেকর্ড টানা ৮ বারের সেমিফাইনালিস্টকে বিদায় করে ১৬ বছরে প্রথমবার শেষ আটে আয়াক্স।

দিনের আরেক ম্যাচে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে ১-০ গোলে জিতেছে টটেনহ্যাম হটস্পার। দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে হ্যারি কেইনের একমাত্র গোলে দ্বিতীয় লেগ জিতেছে তারা। দুই লেগে ৪-০ গোলের অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সেরা চারে থাকা দলটি। সূত্র- গোল ডটকম।

৩ Comments

Comments are closed.