সাড়ে ৪০০ উপজেলার মধ্যে বিনা ভোটে ১১০ উপজেলা চেয়ারম্যান

ডেস্ক রিপোর্ট , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
মার্চ ১৪, ২০১৯ ৮:৩৮ অপরাহ্ণ

উপজেলা পরিষদের পঞ্চম সাধারণ নির্বাচনের প্রথম চার ধাপে প্রায় সাড়ে ৪০০ উপজেলার মধ্যে ১১০ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে কোনো ভোট হচ্ছে না। এসব আসনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদেও অনেক উপজেলায় একই ঘটনা ঘটছে। আগামী ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপে নির্বাচন হতে যাওয়া ১২২টি উপজেলার ২৫টিতেই একজন করে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাড়া আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি। গতকাল বুধবার এ ধাপের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে একক প্রার্থী রয়েছে এমন উপজেলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯। পঞ্চম ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বাকি। এ ধাপের নির্বাচন হতে পারে রোজার মাসের পর জুনের শেষ দিকে এবং শেষ পর্যন্ত বিনা ভোটের চেয়ারম্যানের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

চতুর্থ ধাপে একক প্রার্থীর কারণে যেসব উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ভোটের প্রয়োজন নেই, সেই ৩৯টি উপজেলা ও একক প্রার্থীরা হচ্ছেন :

ভোলা সদরে মোশারফ হোসেন, মনপুরায় সেলিনা আক্তার, দৌলতখানে মঞ্জুরুল আলম খান; পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মিরাজুল ইসলাম; যশোর সদরে শাহীন চাকলাদার, শার্শায় সিরাজুল হক মঞ্জু; খুলনার ফুলতলায় শেখ আকরাম হোসেন, বটিয়াঘাটায় আশরাফুল আলম খান; বাগেরহাট সদরে সরদার নাসির উদ্দিন, মোংলায় আবু তাহের হাওলাদার, চিতলমারীতে অশোক কুমার বড়াল, কচুয়ায় এস এম মাহফুজুর রহমান, রামপালে শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, শরণখোলায় কামাল উদ্দিন আকন; ময়মনসিংহ সদরে আশরাফ হোসাইন, গফরগাঁওয়ে আশরাফ উদ্দিন বাদল, ফুলবাড়ীয়ায় মালেক সরকার; ঢাকার সাভারে মঞ্জুরুল আলম রাজীব, কেরানীগঞ্জে শাহীন আহমেদ, দোহারে আলমগীর হোসেন; টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে হারুন-অর-রশিদ হিরা, মধুপুরে সরোয়ার আলম খান আবু, গোপালপুরে ইউনুস ইসলাম তালুকদার; কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আব্দুস সোবহান ভূইয়া হাসান, নাঙ্গলকোটে শামসুদ্দিন হায়দার কালু, লাকসামে অ্যাডভোকেট ইউনুস ভূইয়া, মনোহরগঞ্জে মো. জাকির হোসেন ও দেবীদ্বারে জয়নাল আবেদীন; নোয়াখালীর সেনবাগে জাফর আহমেদ চৌধুরী, সোনাইমুড়ীতে খন্দকার রুহুল আমিন, সুবর্ণচরে অধ্যক্ষ খাইরুল আনম সেলিম, কোম্পানীগঞ্জে সাহাব উদ্দিন; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আবুল কাসেম ভূইয়া, কসবায় অ্যাডভোকেট রাশেদুল কাউসার ভূইয়া জীবন; ফেনীর ফুলাগাজীতে আব্দুল আলিম, সোনাগাজীতে জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টন, দাগনভূঞায় দিদারুল কবির রতন, ছাগলনাইয়ায় মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল ও পরশুরামে কামাল উদ্দিন মজুমদার।

গত ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপে ৭৮টি উপজেলার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাতজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এমনকি তিন পদেই একজন করে প্রার্থী থাকায় তিনটি উপজেলায় ভোটগ্রহণেরই প্রয়োজন হয়নি। এ ছাড়া আদালত ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে যে ছয়টি উপজেলার নির্বাচন স্থগিত রয়েছে সেখানেও চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী রয়েছেন।

১৮ মার্চ অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ১২৪ উপজেলার মধ্যে ২৫ উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এ ধাপের নির্বাচনে ১৪ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি। পরে আরো ১১ উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা ছাড়া অন্যরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এ ধাপে চারটি উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত আসনের নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদের সব কটিতেই একক প্রার্থী রয়েছেন। এগুলো হচ্ছে পাবনা সদর, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া ও চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা। ২৪ মার্চ অনুষ্ঠেয় তৃতীয় ধাপের ১২৭টি উপজেলার মধ্যে ৩০টি উপজেলায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া