জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার মার্কিন সমাবেশের নেতৃত্বে বাংলাদেশি কিশোরী

ডেস্ক রিপোর্ট , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
মার্চ ১৫, ২০১৯ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ‘ইয়ুথ ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ শীর্ষক কর্মসূচির ফিলাডেলফিয়ায় আয়োজিত সমাবেশের নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক কিশোরী। শুক্রবার (১৫ মার্চ) প্রায় একশ’র মতো দেশে একযোগে পালিত হবে কর্মসূচিটি। স্কুল থেকে শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসবে রাস্তায়। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থীর এ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা।

শুক্রবারের সমাবেশে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কথা বলবেন ফিলাডেলফিয়া শহরের অ্যাকাডেমি অব পালুম্বো’র শিক্ষার্থী সাবিরাহ মাহমুদ। ১৬ বছর বয়সী এই কিশোরী সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। সফরে এসে তিনি বুঝতে পেরেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে তাতে কত বড় মাত্রার ক্ষতি হতে পারে।

জাতিসংঘের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে দেওয়া সতর্কবার্তার কথা উল্লেখ করেছেন সাবিরাহ। তার ভাষ্য, ‘আগামী ১২ বছরের মধ্যে কোনও মহাবিপর্যয় ঘটুক তা আমরা দেখতে চাই না। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চাই।’

‘ইয়ুথ ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ কর্মসূচির শুরু সুইডেনের এক শিক্ষার্থীর অনুপ্রেরণায়। গ্রেটা থানবার্গ নামের সেই কিশোরী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে কর্মসূচি পালন করতো। তার উদ্যোগ একসময় অনুপ্রাণিত করে আরও অনেককে।

গ্রেটার কর্মসূচিতে অনুপ্রাণিত হয়ে সাবিরাহ ফিলাডেলফিয়ায় কর্মসূচিটি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রেটার সঙ্গে তার ইমেইলে যোগাযোগ হয়েছে। সাবিরাহ স্থানীয় একটি রেডিও চ্যানেলকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির বিষয়ে বলেছে, ‘যদি আমরা নিজেরাই না দাঁড়াই, তাহলে আর কে দাঁড়াবে আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে?’

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বিশ্বজুড়ে ঘূর্ণিঝড় ও দাবানল বাড়তে থাকবে। সেই সঙ্গে দেখা দেবে খাদ্য সংকটসহ অন্যান্য দুর্যোগ। বড়জোর ২০৪০ সালের মধ্যে এসব দুর্যোগে ভুক্তভোগী হতে শুরু করবে মানুষ। ১৩ মার্চ জাতিসংঘের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানি ও বাতাস বিশুদ্ধ করার জন্য যদি ‘অভূতপূর্ব মাত্রার’ উদ্যোগ গ্রহণ করা না হয়, তাহলে তা লাখ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দেখা দেবে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে সংশ্লিষ্টদের ধারণা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে এসব সতর্কবার্তাকে তারা উপেক্ষা করছে। দেশটি একদিকে যেমন প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আরও কয়েকটি চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে নিজেদের। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের এই নিষ্ক্রিয়তায় প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছেন অনেকে, যাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা।

সম্প্রতি একদল তরুণ-তরুণী সিনেটর ডায়ান ফেইন্সটেইনকে উদ্দেশ করে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। এসব তরুণ-তরুণীর অনেকেই তাদের এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর চাপ দিচ্ছেন সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী সাবিরাহ পেনসিলভানিয়ার (পিএ) রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট টমিকে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানিয়েছেন। ‘গ্রিন নিউ ডিল’ নামে আখ্যায়িত প্রস্তাবনাটি দ্রুত কার্যকরের দাবি ছিল তার। ‘গ্রিন নিউ ডিল’ প্রস্তাবটি সামনে এনেছে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যদের একটি দল। তাদের লক্ষ্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস ও অনুকূল জলবায়ু নিশ্চিতে অন্যান্য পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা।
সাবিরাহ যে সমর্থন চেয়েছিলেন, তা তিনি পায়নি। সিনেটর তার আবেদনের জবাবে লিখেছেন, ‘নতুন এই প্রস্তাবনা যদি গ্রহণ করা হয় তাহলে তা পেনসিলভানিয়া ও পুরো দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও কয়লা উৎপাদনে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অঞ্চল পেনসিলভানিয়ার অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে যদি ওই প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হয়।’
সাবিরাহ সিনেটরের জবাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। জবাবটির সঙ্গে তিনি তার নিজের মূল্যায়নও তুলে ধরেছেন। লিখেছে, ‘এটি পেনসিলভানিয়ার সিনেটরের বক্তব্য। তিনি এমন এক অর্থনীতি নিয়ে বেশি চিন্তিত, যা আমাদের থাকবেই না, যদি আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পদক্ষেপ না নিই। এটাই কি আপনারা সবাই চান? প্যাট টমি, চলমান নীতির বিষয়ে আপনার আবার ভাবা উচিত। আর তা নিশ্চিত করতেই আমাদের এই আন্দোলন।’

‘পিএ ইয়ুথ ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ এখন সাবিরাহর ছবি দিয়ে রেখেছে তাদের ওয়েবসাইটে। সেখানে আছে তার উদ্ধৃতিও, ‘তারা যে আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আমাদেরকেই কোনও সুযোগ দিচ্ছেন না তা এক পরিহাসের বিষয়। আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে, জানাতে হবে আমাদের দাবি।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া