জাতীয় - মার্চ ১৯, ২০১৯

এ বছর হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন ঢাকায়

প্রতি বছর হজ যাত্রীদের দুর্বিসহ পরিস্থিতিতে পড়তে হয় সৌদি আরবের বিমানবন্দরে গিয়ে। ঢাকা থেকে ছয় ঘণ্টা উড়োজাহাজ ভ্রমণের পর জেদ্দা অথবা মদিনা এয়ারপোর্টে নেমে তারা সরাসরি যেতে পারেন না হজ টার্মিনালে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ইমিগ্রেশনের দীর্ঘ লাইনে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বয়োবৃদ্ধরা। আর ভ্রমণ ক্লান্তরা আরো ক্লান্ত হয়ে যান। ইমিগ্রেশনের ধকলে পড়ে প্রতি বছর মৃত্যু ঘটছে হজযাত্রীদের।

গত বছর দীর্ঘ সময় জেদ্দায় ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে ৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব সরকার অন্যান্য কয়েকটি দেশের মতোই বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে এবছর থেকে হজযাত্রীদেরকে জেদ্দা বা মদিনায় গিয়ে আর ইমিগ্রেশনের চরম দুর্ভোগে পতিত হতে হবে না। তারা সৌদি আরবের যে কোনো এয়ারপোর্টে বিমান থেকে নেমে সরাসরি হজ টার্মিনালে প্রবেশ করতে পারবেন। টার্মিনাল থেকে মুয়াল্লেমের গাড়িতে মক্কায় নিয়ে যাওয়া হবে হজযাত্রীদের।

ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে আরোহণের পূর্বে সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উত্তরার হজ ক্যাম্পে হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করবেন। সৌদি আরবের ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা ঢাকায় বসে হজযাত্রীদের পাসপোর্ট ও কাগজপত্র চেক করে তাতে সিল দিয়ে দেবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র ও হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-হাবের মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম জানান, আগামী ২১ মার্চ সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন টেকনিক্যাল টিম ঢাকায় আসছেন এবং আগামী ৬ এপ্রিল সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব হোসেন শরিফের নেতৃত্বে সৌদি পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালকসহ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সৌদি সরকারের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ঢাকা সফরে আসছেন। মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার হজযাত্রীরা গত দুই বছর ধরে তাদের দেশে বসেই এই অগ্রিম ইমিগ্রেশনের সুযোগ পাচ্ছেন। এদিকে হজযাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সৌদি সরকার গত বছর থেকে পুরো হজ ব্যবস্থাপনাকে অনলাইন ভিত্তিক করেছে। হজের নিবন্ধন, ভিসা, হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়া, অর্থের লেনদেন— সব কিছুই বর্তমানে অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে।

এদিকে চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পাবেন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক নিবন্ধনকারীদের মধ্যে হজ গমনেচ্ছুদের নিবন্ধনের জন্য যথাক্রমে ২০ ও ২১ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুইদিন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের জন্য তিনদিন সময় রয়েছে। তবে এখনো ৬৮ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী তাদের নিবন্ধন করেননি।

গতকাল রাত ৮টায় সর্বশেষ ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রকাশিত হজ বুলেটিনে বলা হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫,৬৩৭ জন নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধনের জন্য অবশিষ্ট আছেন ১,১৭৯ জন। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৮,৯৬০ জন নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধনের জন্য অবশিষ্ট আছেন: ৬৭,৭৮৬ জন। হাব মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, আশা করা যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ নিবন্ধন হয়ে যাবে। না হলে আরো একবার সময় বৃদ্ধির আবেদন জানানো হবে।


আরও পড়ুন