দেশের খবর - মার্চ ২৯, ২০১৯

বনানী ট্রাজেডি : জলঢাকায় রুমকীর লাশ, চলছে শোকের মাতম

নীলফামারীর জলঢাকা বিন্যাকুড়ি গ্রামে চলছে শোকের মাতম। কারণ, বনানী এফআর ভবনে অগ্নিকান্ডে নিহত দম্পত্তির একজন রুমকী। একই ট্রাভেল এজেন্সিতে কর্মরত ছিল এই দম্পত্তি। নিহত রুমকী জলঢাকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ আলীর ছোট ভাই আশরাফ আলীর মেয়ে। এফ আর টাওয়ারে শ্বাসরোধ হয়ে নিহত রুমকীর লাশ নিয়ে আসা হয়েছে তার নিজ গ্রামে। শুক্রবার দুপুর ১২টায় একটি লাশবাহী গাড়ীতে তার মরদেহ ঢাকা থেকে পৌছেছে। এসময় স্বজন ও এলাকাবাসীর বুক ফাটা আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। বাদ জুম্মা রুমকীর জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মায়ের পাশে দাফন করা হয়।

সরেজমিন শুক্রবার সকালে উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের বিন্যাকুড়ি এলাকায় নিহত রুমকীর বাবার বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, রুমকীকে এক নজর দেখার আশায় হাজারো মানুষের প্রতীক্ষা।সে সময় পর্যন্ত তার মরদেহ সেখানে পৌছেনি।কথা হয় রুমকীর ভাই রওশন আলী রনির সাথে। তিনি জানান,আমাদের দুই ভাইয়ের মাঝে একটি মাত্র বোনই ছিল । সেও চলে গেল।তার অফিসে আগুন লাাগার সাথেই আমাকে ও আব্বাকে মোবাইল করেছিল।কি বলেছিল ফোনে জানতে চাইলে আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ভাইয়া ধোঁয়ায় আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আমি বোধহয় মারা যাবো। আমার জন্য দোয়া করিস! এরপর অনেকবার ফোন দিয়েছি আর ধরে নাই।এই বলে তিনি আবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

সেখানে উপস্থিত জ্যাঠাতো বোন সাজেদা জাহান মুক্তা বলেন, বোনটি আমার অনেক ভাল ছিল।এলাকার মানুষ তাকে প্রচন্ড ভালবাসতো।এই তো সেদিন তিন দিনের ছুটিতে বেড়াতে এসেছিল রুমকী।কিন্তু কখনো ভাবিনি এ দেখাই শেষ দেখা হবে। তার মুখ হতে শুনলাম সে চার মাসের অন্তসত্তা ।

মুক্তা বলেন, রুমকী লেখা-পড়ায় অনেক মেধাবী ছিল।২০০১ সালে স্থানীয় বিসি সরকার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে। রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাসে অনার্স ও ঢাকা তিতুমীর কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করে একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরীতে যোগদান করে।

নিহত রুমকীর বড় ভাই রফিকুল ইসলাম রিকু বলেন, তিন বছর আগে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে মাকসুদুর রহমান জেমির সাথে বিয়ে হয়। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস জীবন বাচাতে বোনের স্বামীও বহুতল ভবন থেকে ঝাপ দিয়ে সেও মারা যায়। মাত্র ছয় মাস আগে আমাদের মা মারা যায় সেই শোক কাটতে না কাটতেই আবারো একটি শোক।


আরও পড়ুন