ক্যাম্পাস - মার্চ ৩১, ২০১৯

রাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার হোক উন্মুক্ত

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ নামে খ্যাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশাল এ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। খেলাধুলার জন্য রয়েছে খেলার মাঠ, সংস্কৃতি চর্চায় টিএসসিসি, নাটক চর্চারও রয়েছে বিরামহীন সুযোগ। মোটকথা এমন কোনো সুযোগ নেই যা এ ক্যাম্পাসে নেই।

তবে, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে চাকরির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য চাই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি। কেননা, সরকারী চাকুরী বর্তমানে সোনার হরিণে পরিনত হয়েছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে রাবি গ্রন্থাগারে রয়েছে ২টি রিডিং রুম কিন্তু এ রিডিং রুমে নেই পর্যাপ্ত পড়ার সুযোগ।

রাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত শিক্ষনীয় বই রয়েছে। কিন্তু বর্তমান জব সেক্টরে টিকে থাকার জন্য যেসব বই প্রয়োজন তা নেই বললেই চলে।

তাছাড়া, গ্রন্থাগারে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস), ব্যাংক ইত্যাদি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাপোযোগি বই নিয়ে প্রবেশে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। একারনে, সকাল থেকে গ্রন্থাগারের রিডিংরুমে উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়।

অন্যদিকে, বিশাল পরিসরের গ্রন্থাগারে বই নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ফলে গ্রন্থাগারের আসনগুলো একরকম ফাঁকাই পড়ে থাকে।গ্রন্থাগারে এসে পড়াশোনা করার আগ্রহ দিনদিন কমছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। এমন অবস্থা বিরাজ করলে শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে পড়ার আগ্রহ কমিয়ে ফেলবে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গ্রন্থাগারে রয়েছে বই নিয়ে প্রবেশের সুবর্ণ সুযোগ। সেখানে লাইব্রেরীতে বইয়ে রয়েছে তালাবদ্ধ করে রাখার পদ্ধতি। কোনো বই পড়তে ইচ্ছুক যে কেউ লাইব্রেরী পরিদর্শকের দৃষ্টি আকর্ষন করলেই লুফে নিচ্ছে কাঙ্খিত বই।

একারনে, অন্যবই নিয়ে প্রবেশেও নেই বাঁধা। রাবিতেও এই পদ্ধতি চালু হলে শিক্ষার্থীরা আশপাশে গেদারিং না করে নিজ লাইব্রেরীতে ফিরে আসবে। সরজমিনে গিয়ে দেখ যায় ছোট্ট রিডিং রুমে শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে ল্ধাসঢ়;ইনে দাড়িয়ে থাকে যাতে পড়ার জন্য রুমে সিট পায়।

সমাজকর্ম বিভাগের মার্স্টাসের শিক্ষার্থী মো.রফিক গ্রন্থাগার সম্পর্কে বলেন, ভোর ৬টা সিট ধরতে হয় না হলে পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়না।যদি মূল রিডিং রুমে বই নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হত তাহলে এ
আসন নিয়ে সমস্যা হত না। এ রুমে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে দীর্ঘদিন ধরে এসি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দাবিও জানিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে রাবি ছাত্রলীগ গ্রন্থাগারের আসন বৃদ্ধিসহ নানা জটিলতা নিরসনে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার পুরোপুরি উন্মুত্ত হওয়া এখন সময়ের দাবি।


আরও পড়ুন