ধান কেটে ঘরে আনার আগেই হাওরে হাজারো হেক্টর জমি বিনষ্ট

একফসলী বোরো উৎপাদনে হাওরাঞ্চলের সবুজ মাঠগুলি ধান পেঁকে যখন সোনালী হয়ে কাটার অপেক্ষায় করেছে, ঠিক সেই মুর্হুতে প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবে আবার ক্ষয়ক্ষতি হতে শুরু করেছে। কৃষকেরা বুক ভরা আশা নিয়ে ধান কেটে গোলায় উঠাবার কদিন বাকী প্রকৃতির এই বিরূপ প্রভাব হাওরের জনমনে আতংক উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। কয়েক বছর অকাল বন্যায় এই অঞ্চলের ৭০ থেকে ৯০ ভাগ ফসল বিনষ্ট করে। বিপন্ন কৃষকদের বাঁঁচানো এবং পরবর্তী ফসল উৎপাদনের জন্য সরকারি ভাবেও সার, বীজ, চাল, নগদ টাকা ইত্যাদি কৃষি ভূর্তকিতে সহায়তা করে। কিন্তু গত মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই দফায় দফায় শিলার্বষ্টি ঝড় ও ধমকা হাওয়া ঘৃর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রকৃতির বিরূপ পরিবেশে কষ্টার্জিত ফসলহানি খবর পেয়ে কৃষকদের মাঝে শুরু হচ্ছে আহাকার।ফলে হাওরের কৃষকেরা আতংক উৎকন্ঠায় সময় অতিক্রম করছে। ইতিমধ্যে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম ও পাশ্ববতী হাওর উপজেলায় দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি ও ঘুর্ণিঝড়ে হাওরে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি বিনষ্ট হয়ে গেছে।এছাড়াও ক্রমাগত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি আসতে শুরু করায় নদীগুলিতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও বি-বাড়ীয়া জেলার সংযোগস্থল এই হাওর অঞ্চলের আবাদি জমির ৭০ ভাগ জমিতেই একমাত্র ফসল বোরো ধানের আবাদ হয়ে থাকে। মোট জনসংখ্যার ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ মানুষ এ বোরো উৎপাদনের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। আবাদি জমির ৮০ ভাগের মালিক ১৪ শতাংশ মানুষ হওয়ায় এখানে বর্গাচাষী ছোট ও মাঝারি কৃষক, প্রান্তিক চাষী, কৃষি মজুর, মানুষই সংখ্যাগরিষ্ট, কার্তিক মাসের মধ্য হতে অগ্রহায়ন মান পর্যন্ত এই অঞ্চলের জমিগুলোতে বোরা চারা রোপন করা হয় এবং চৈত্র হইতে বৈশাখ মাস কোন কোন সময় জৈষ্ঠ মাসে ফসল কেটে কৃষকেরা ফসল কেটে গোলায় উঠায়। উৎপাদনের ২০ শতাংশ স্থানীয় খাদ্য চাহিদা পূরণ করে ৮০ ভাগ ধান জাতীয় খাদ্য ভান্ডারে যোগান হয়ে থাকে। এই অঞ্চলের অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইন, নিকলী, বাজিতপুর, নেত্রকোনার খালিয়াজুরী, সুনামগঞ্জের দিরাই শাল্লা, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ, লাখাই, বানিয়াচং, ব্রাম্মণ বাড়িয়ার নাসিরনগর, সরাইল ইত্যাদি উপজেলায় কয়েক বছরের অকাল বন্যায় ৭০ থেকে ৯০ ভাগ বোরো ফসল বিনষ্ট হয়ে ছিল।

বিভিন্ন তথ্যসূত্র ও অভিজ্ঞ কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেছে অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী ভরাট ইত্যাদি কারণ ক’বছর পর পরই অকাল বন্যায় কৃষকদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয়।সারাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি ফেলেও এই হাওরা লে শ্রেণী বৈষম্য বেড়েই চলছে। শ্রমজীবি লোকজনও কৃষি মজুরিতে এবং বৈশাখে ধান কাটার মৌসুমে ছয় সাত মাসের খাবার সংগ্রহ করে। কিন্তু প্রকৃতি ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে এবারেও বিভিন্ন হাওরে প্রচুর জমি রোপন করতে না পারায় অনাবাদি রয়ে গেছে।বাঁচার তাগিদে কৃষকেরা হাওর গুলোতে বোরোর আবাদ করে। ফসলের জমিগুলোও অত্যান্ত সুন্দর ও বাম্পার ফলন হয়েছে। সবুজের সমারোহ থেকে প্রতিটি হাওরে ধান শীষ দিয়ে পাকঁতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবারের দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি ঝড় ধমকা হাওয়ায় ব্রজপাত ধমকা হওয়ার কারনে ইতিমধ্যেই বিনষ্ট হয়ে পড়েছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। শীলাবৃষ্টি ও ঘৃর্ণিঝড়ে অষ্টগ্রামের বড় হাওরের ছাইত্তা, আইল্লা টেক,শেখেরহাটির হাওর,পুকুরপাড়ের হাওর,শরীফপুরের হাওর, লুগুইরা, মুগুইরা, নয়াবন্দসহ বেশ কয়েকটি হাওরে কাচাপাকাঁ ধানের জমিতে ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও কাস্তুল, ভাতশালা বাংগালপাড়ার নোয়াগাও এর কৃষক রুবেল মিয়া জানান, ৪একর বোর জমি করেছিল এরমধ্যে ৩ একরই শিলাবৃিষ্টতে নষ্ট হয়ে গেছে । কলমার ইউনিয়নের চেয়ারম্যন রাধাকৃষ্ণ দাস জানান,ঢালাকান্দি হাওর ও শরীফপুরের হাওর সহ কলমা ইউনিয়নের প্রায় ১৫-২০ ভাগ ফসল নষ্ট হয়েছে।ভাঠির নগরের কৃষক অসিত বরন দাস বলেন, ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ৪একর জমি চাষ করেছিলাম কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে এখন এই জমিতে ৫ হাজার টাকা পাওয়া যাবে না।পৃর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও লর্ড কিং কাউছারুল আলম বলেন হাওরে শিলাবৃষ্টিতে উনার কাচাপাকাঁ সহ প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ ফসল বিনষ্ট হয়ে গেছে। এ বছর ঘরে ধান আসবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ, প্রকাশ করে বলেন হাওরের একাধিক কৃষক। তবে ক্ষতির পরিমান শতশত হেক্টর দাবি করেলেও কৃষকেরা জানান কিশোরগঞ্জে বাজিতপুরের হুমায়ুন পুর হাওর ও মাইচরের হাওর সহ বিভিন্ন হাওরের প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়ে গেছে।

এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো.শফিকুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কনফারেন্সে থাকায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষতির পরিমান নির্ধারন করা যায়নি ।


আরও পড়ুন