দেশের খবর - April 8, 2019

ফায়ারম্যান সোহেল রানাকে বাঁচানো গেল না

রাজধানী বনানীর এফ আর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধারকাজের সময় আহত ফায়ারম্যান সোহেল রানা মারা গেছেন। তিনি রবিবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৭ মিনিটে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সোমবার (৮ এপ্রিল) সকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা মো. সোহাগ এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘সোহেল রানার সঙ্গে আমাদের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রায়হান আশরাফ রয়েছেন। তিনি আমাদের এই খবর জানিয়েছেন।’ সোহেলের লাশ আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুন নেভাতে ও আটকেপড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিলেন কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা। সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার বজলুর রশীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন তিনি।

সোহেল রানার আহত হওয়া প্রসঙ্গে বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেই বড় স্বয়ংক্রিয় মই (লেডার) দিয়ে ভবনে পানি দিচ্ছিলাম। লেডারে করে আটকেপড়া ব্যক্তিদের নামিয়ে আনছিলাম। সোহেল রানা একটি লেডারে ছিল। একটি লেডারে সর্বোচ্চ চার থেকে ছয়জন লোক ধরে। এর বেশি আনা যায় না। সোহেল রানা এবং আরও দুজন ফায়ারম্যান একটি লেডার নিয়ে আটকেপড়া কয়েকজনকে উদ্ধার করে। কিন্তু লেডারে জায়গা হচ্ছিল না। আটকেপড়াদের জায়গা করে দিতে সোহেল রানা লেডারের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসছিলেন। কিন্তু লেডারটি যখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচের দিকে নেমে আসছিল, তখনই হঠাৎ সোহেল রানার পা মইয়ের ভেতরে আটকে গিয়ে ভেঙে কয়েক ভাগ হয়ে যায়। একই সময়ে চাপ লেগে তার পেট ছিদ্র হয়।’

ফায়ারম্যান সোহেল রানার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। বাবা নূরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন। চার ভাই এক বোনের মধ্যে রানা দ্বিতীয়। ফায়ারম্যান পদে ২০১৫ সালে ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন রানা।


আরও পড়ুন