করিমগঞ্জ - কিশোরগঞ্জের খবর - এপ্রিল ১৬, ২০১৯

কিশোরগঞ্জে স্কুলের সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ, উন্নয়ন কর্মকান্ডে বাধা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের পিটুয়া আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি নতুন ভবন প্রতিষ্ঠার জন্য মাঠের ভীতর ও বাউন্ডারি সীমানায় থাকা কিছু গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে স্কুলের নিকটতম প্রতিবেশী মোঃ জিল্লুর রহমান গং কর্তৃক বাধা সৃষ্টির অভিযোগ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোছাঃ মনিরা আক্তার খাতুন ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, স্কুলে নতুন ভবন তৈরির জন্য সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ৭৫ লাখ টাকা। যখন সরকারি নীতিমালা মেনে প্রকাশ্য নিলামে স্কুলের ৯টি গাছ কর্তন করার জন্য যাওয়া হয় তখন স্কুলের জায়গাকে নিজের জায়গা দাবি করে জিল্লুর রহমান এবং শাহজাহান গাছ কাটতে বাধা দেয় এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগ করে হয়রানি করছে।

এলাকাবাসী জানায়, তের বছর আগে স্কুলের পাশের বাড়ির মোঃ সিরাজউদ্দিন ৬৪ শতাংশ সম্পত্তি স্কুলের জন্য দান করে। সম্প্রতি নতুন ভবন করার জন্য সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ আসার পর উন্নয়ন কর্মকান্ড শুরু হলে জিল্লুর রহমান এবং শাহজাহান স্কুলের সম্পত্তিকে নিজেদের জায়গা বলে দাবি করে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। এলাকাবাসী আরও জানান, এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠে স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র ছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী আমরাও তার তীব্র নিন্দা জানাই।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান, করিমগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন সুলতানাকে কর্তন কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ মনিরা আক্তার কাতুনকে সদস্য সচিব করে বনবিভাগের মাধ্যমে সরকারি নীতিমালা মেনে প্রকাশ্য নিলামে স্কুলের গাছ বিক্রয় করা হয়। ৮টি গাছ কর্তনের পর শেষ গাছটি কর্তনের সময় তারা বাধা দেয়। প্রতিষ্ঠানের গাছকে তারাতো নিজেদের সম্পদ দাবি করতে পারে না। তবে, কেন এই মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা ও উন্নয়ন কাজ ব্যাহত করছে তারা এলাকাবাসীসহ আমরা সকলেই জানি। বিগত দিনে স্কুলের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে একজনের আগ্রহ ছিলো, সভাপতি হতে না পারায় এই ইউনিয়নের সম্মানীয় ব্যক্তি বিভিন্ন সময় স্কুলের দোষ ত্রুটি খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি এবং এ ব্যাপারেও প্রকাশ্যে তিনি কলকাঠি নাড়ছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বর্তমান ইউপি সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ রমজান আলী, মোঃ মাহবুব আলম, দাতা সদস্য মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ মাজহারুল ইসলাম, সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় অর্ধশতাধিক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাদীপক্ষের কয়েকজন লোক স্কুল থেকে আসার পথে রাস্তায় সাংবাদিকদের গতিরোধ করে বলেন, এই সম্পত্তি নিয়ে বাটোয়ারা মামলা রয়েছে। আমাদের গাছ কর্তন করে নিয়ে যাওয়ায় আমরা স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা করেছি। আমাদের সম্পত্তি পাবার জন্য আমরা মামলা করেছি, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এখানে কেউ নাক গলানো ঠিক হবে না।

এ ব্যাপারে করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্কুলের নতুন ভবন তৈরি হবে, তাই সরকারি সকল নিয়ম অনুযায়ী স্কুলের গাছ প্রকাশ্যে নিলাম বিক্রয় করা হয়েছে। যারা দাবি করছে এখানে তাদের সম্পত্তি রয়েছে তারা আমার কাছে অভিযোগ দাখিল করেছে। আমি সার্ভেয়ারকে তদন্ত করার জন্য পাঠিয়েছি, উনি এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর আমি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবো।


আরও পড়ুন