দূর পরবাস - এপ্রিল ১৭, ২০১৯

মিশরে বাংলা নববর্ষ পালিত

আফছারুল হোসাইন, মিশর প্রতিনিধি : বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে মিশর প্রবাসী বাংলাবিদেশীরা। দক্ষিণ এশিয়ার সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ আর সুদূর আফ্রিকা মহাদেশে লোহিত সাগর ও নীল নদের তীরে অবস্থিত বিশ্বের প্রাচীনতম বেসামরিক দেশ মিশর। হাজার মাইলের ভৌগোলিক দূরত্বে অবস্থিত বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রকৃতি ও ভিন্ন সংস্কৃতির দুটি দেশ।

জীবিকা ও পেশাগত দায়িত্বের প্রয়োজনে এ দেশের রাজধানী কায়রো, আলেকজান্ডারিয়া, পোর্ট সাঈদ, ইসমায়েলিয়া ও আশরা রমাধান শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বসবাস। একাকী প্রবাসজীবনে পরিবার, আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব থেকে দূরে থাকা এবং দেশীয় স্বাদ ও আমেজের জন্য সারা বছর হা-হুতাশ করা এই প্রবাসীরা হাজার মাইলের দূরত্ব আর সাংস্কৃতিক ভিন্নতর কষ্ট ভুলে যায় প্রতিবছর ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের দিনটিতে। দৈনন্দিন হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও বছরে এই দিনটি পালন না করলে প্রবাসী বাঙালিদের জন্য একটা অসম্পূর্ণতা ও অতৃপ্তি থেকেই যায়।

মিশরে বাংলাদেশ দুতাবাস এর উদ্যোগে রাজধানী কায়রো ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে প্রতি বছরের মত এবারও ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গত রোববার ( ১৪ই এপ্রিল ) পালিত হল বাংলা নববর্ষ। বাংলাদেশ দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন কৃতি ছাত্র জনাব ডাক্তার মোহাম্মদ আলী সরকারের শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে বৈশাখী বরণ উৎসব অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।

ছোট আর বড়দের রং-বেরঙের বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশীয় পোশাক, সাজসজ্জা, ভোজনরসিক বাঙালির প্রিয় পিঠা-পায়েস আয়োজন আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মিশরে বাংলাদেশে দুতাবাস প্রাঙ্গণটি হয়ে ওঠে আনন্দমুখর একটি ক্ষুদ্র বাংলাদেশ। দেশের সীমানা পেরিয়ে সুদূর বিদেশের মাটিতে নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরার এ প্রয়াস দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ এবং দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্বেরই উদ্‌যাপন।

এরপর বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, বাঙালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরে সাহিত্য সম্ভার, কবিতাপাঠ, বৈশাখের উপর সমবেত একক ও দ্বৈত গান, শিশু ও মহিলাদের জন্য ক্রিড়া প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে দুতাবাসের সকল কর্মকর্তা/কর্মচারি, আল আজহার ও কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ, ডাক্তার, পেশাজীবী, ব্যবসায়ীরা অংশ গ্রহন করেন। সবশেষ ছিলো র‌্যাফেল ড্র, পুরস্কার বিতরণী ও আপ্যায়ন।


আরও পড়ুন