ফিচার - এপ্রিল ১৮, ২০১৯

মিশরের প্রধান খাদ্য ‘আইশ বালাদী’ বা স্থানীয় রুটির ইতিকথা!

আফছারুল হোসাইন, মিশর প্রতিনিধি : আজ থেকে প্রায় ১২,০০০ বছর আগে অর্থাৎ ৮০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মিশরে প্রথম রুটি তৈরির প্রচলন শুরু হয়। এই মিশরেই শস্য ভাঙা এবং পেষণের জন্য প্রথম পাথরে তৈরি এক যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়, যাকে বলা হয়ে থাকে কোরেন। তবে ৫০০০ থেকে ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মিশরীয় সভ্যতার মানুষেরা রুটি তৈরিতে আরও একধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। তারা দেখেছিল, খামিরা ‘ইস্ট’ দিলে রুটিটা বেশ ফুলে-ফেঁপে ওঠে। মিশরীয়রা প্রথম খেয়াল করেছিল, রুটি তৈরির শ্রেষ্ঠ এক উপাদান হলো গম।

প্রাচীন মিশরীয়রা শস্য ভাঙা এবং পেষণের জন্য প্রথম পাথরে তৈরি যন্ত্র আবিষ্কৃত করে। রুটি তৈরির এই আদিম মিশরীয় পদ্ধতিটি বেশ সহজ-সরল। গম কিংবা অন্যান্য শস্য কোরেনে পিষে আটা তৈরি করা হয়।

তারপর তা জলে ভিজিয়ে, ইস্ট দিয়ে হাতে ঠেসতে-ঠেসতে, মাখতে-মাখতে নরম তাল তৈরি হয়। তালের অভ্যন্তরীণ কার্বোহাইড্রেট ইস্টে জারিত হয়ে কার্বন ডাই অক্সাইডের বুদ্বুদ তৈরি করে। এর ফলে, এই আটা বা ময়দার তালটা দিব্যি ফুলে-ফেঁপে ওঠে। শেষে গরম উনুনে এই রুটি সেঁকা হয়।

মিশরীয় সভ্যতার লোকেরা এভাবে প্রথম হালকা, ফাঁপা ও ফুলকো-ফুলকো সুস্বাদু রুটি তৈরি করেছিল। ঐতিহাসিকদের অনুমান, রুটি সেঁকার জন্য উনুনও প্রথম ওই মিশরীয়রা আবিষ্কার করেছিল। হাতে গড়া চ্যাপ্টা রুটিও বেশ প্রাচীন। ধনী দারিদ্র্যের বিচারে মিশরী প্রধান খাদ্য রুটির কোয়ালিটিতে আছে তারতম্য।

সরকারী ভর্তুকিতে প্রতি পরিবারের জন্য গত দশকেও রিলিফ দেয়া হত মিশরীয় স্থানীয় মুদ্রার এক পাউন্ডে (৫ টাকা) বিশটি রুটি। যিনি যতটি রুটি নিতে চান, প্রতি ২০ টি রুটির জন্য এক পাউন্ডের গুনিতক হারে মুদ্রা পরিশোধ করতে হত। কিন্তু বর্তমানে সদস্যের সংখ্যার উপর নির্ভর করে এখন সেই রিলিফের রুটির পরিমান ও মূল্য তুলনামূলক চড়া দাম! সদস্য সংখ্যার নির্দিষ্ট তথ্য সমেত আছে স্মার্ট কার্ড। রুটির সরকারী বেকারীতে গেলে কার্ড আর মূল্য পরিশোধ করে এক পাউন্ডে ৪ টি করে রুটি পাওয়া যায়। কিন্তু রিলিফ গ্রহীতা ছাড়া খোলা বাজার কিংবা ফর্ন (বেকারি) থেকে ১ পাউন্ডে ১টি রুটি কিনতে হয়।

তবে মজার বিষয়, রুটি কিন্তু আমাদের দেশের মত গৃহিণীদের হাতে বানাতে হয় না। তাই স্বাদও অন্যরকম। সবচেয়ে ভাল লাগা দৃশ্য হল, যখন রুটির ফেরিওয়ালা ঝাকা ভর্তি কয়েক’শো রুটি মাথায় করে প্রায় না ধরেই সাইকেল চালিয়ে যান। রুটির কারখানা হতে গরম রুটি সংগ্রহের পর ঠান্ডা করার জন্য ক্রেতা নিজেই পাশের গাড়ি, রাস্তার আইলেন সহ যত্রতত্র বিছিয়ে দেন। কিংবা রাস্তায় পরে থাকা এক টুকরো সুকনা রুটি দেখে, তা তুলে নিয়ে সালাম করে নিরাপদ জায়গায় রেখে দেয়।


আরও পড়ুন