দেশের খবর - এপ্রিল ১৯, ২০১৯

জলঢাকায় জোড়া সন্তান জন্ম দিয়ে হতাশায় এক দম্পত্তি

নীলফামারীর জলঢাকায় জোড়া সন্তান জন্ম দিয়ে হতাশায় ভুগছে এক দম্পত্তি। টাকার অভাবে নবজাতক জোড়ার মিলছেনা উন্নত চিকিৎসা। সোমবার ১৫ এপ্রিল স্থানীয় একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ানের মধ্য দিয়ে জন্ম হয় জোড়া লাগানো নবজাতকের। সরেজমিন শুক্রবার সকালে ওই ক্লিনিকে গেলে দেখা যায়, উৎসুক মানুষজন ভীর করছে জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেওয়া মেয়ে নবজাতকদের দেখার জন্য। এসময় সেখানে উপস্থিত থাকা নবজাতকদের বাবা লাল মিয়ার সাথে কথা হয়।

লাল মিয়া বলেন, ‘ উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গোপালঝাড় গ্রামে আমাদের বাড়ী। আমি ঢাকা সাভার এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কাটিং সেকশনে কাজ করি। ৮জুলাই/১৮ একই ইউনিয়নের আনছার হাট এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে মনুফা বেগমের সাথে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সে গর্ভবতী হলে আলট্রাসনোগ্রাম করেছি। ডাক্তার বলেছেন ভাল আছে। সেসময় জোড়া লাগানো ও জমজের বিষয়ে আমাকে বলা হয় নাই। জন্মের পর এখন দেখি জোড়া লাগানো। তাদের দেহের সবই আলাদা হলেও কোমরের নীচ থেকে পায়খানার রাস্তা এক। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে গেলে ডাক্তারগণ ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন। টাকার অভাবে ঢাকা তো দুরের কথা, রংপুরেই থাকা সম্ভব হয় নাই।

এখন সমাজের সহৃয়বানদের সাহায্য-সহযোগীতা ছাড়া তাদের চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। আপনাদের মাধ্যমে আমি তাদের সাহায্য চাই’।

নবজাতকদের মা মনুফা বেগম বলেন, ‘শুধু তাদের পায়খানার রাস্তা একটা। জন্মের দিনেই হাওলাদ-দেনা করে রংপুর নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা সম্ভব না। ডাক্তারেরা বলেছেন অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা পায়খানার রাস্তা করা সম্ভব হতে পারে। তাই ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছিল। টাকা না থাকায়
তাদেরকে ফেরত আনা হয়। এখন আল্লাহ জানে তাদের ভাগ্যে কি হইবে ?’

ওই ক্লিনিকের কর্তব্যরত সার্জন ডা. মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসা সেবায় আমাদের দেশ বর্তমানে অনেক এগিয়ে। বিভিন্ন পরীক্ষা ছাড়া কিছুই বলা ঠিক না। তারপরেও নবজাতকদের মেরুদন্ড জোড়া লাগানো না থাকলে ঢাকায় এ চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে ’।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জেড এ সিদ্দিকী বলেন, ‘ জোড়া লাগানো নবজাতক বিষয়ে আমি জানিনা।’


আরও পড়ুন