ক্যাম্পাস - এপ্রিল ২৫, ২০১৯ ৪:৪২ অপরাহ্ণ

রাবিতে বর্ণিল আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধার প্রজন্মদের বরণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বর্ণিল আয়োজনের মধ্যদিয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন মুক্তিযোদ্ধার প্রজন্মদের বরণ করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় ডিনস কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কর্তৃক নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

নবীনদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১৯৭১ সাল, বাঙ্গালীদের ঘরে বসে থাকার মায়া ত্যাগ করে জীবন বাজী রেখে পরিবারের ছেড়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে গিয়েছিলাম, এটা সহজ কাজ নয়। পাকিস্তানি আলবদর -রাজাকার মুক্তিযোদ্ধাদের ও তাদের পরিবারের উপর বর্বর হামলা চালিয়েছিলো তবুও আমরা দেশ স্বাধীন করে ঘরে ফিরেছিলাম।

মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক শাহ আজম শান্তনু বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার এই বাংলাদেশ, স্বাধীনদেশে মুক্তিযোদ্ধা, সন্তান ও প্রজন্মদের হেয় করে দেখা হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা নাকি আজ পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে,বিশ্ববিদ্যালয় কোটা দিয়ে ভর্তি হয়ে সেটা বলতে লজ্জাবোধ করে কিন্তু কেন ? মনে রাখতে
হবে আমরা জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান। মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের যতদিন না নিজের পায়ে দাড়াতে পারবে ততদিন সরকার তাদের সুবিধা দিয়ে যাবে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটি সাধারণ সম্পাদক সরকার ফারহানা আক্তার সুমি বলেন, আমরা বায়ান্ন দেখিনি দেখিনি একাত্তর, কিন্তু শুনেছি আমি বাবার মুখে যুদ্ধের করুণ ইতিহাস। আমরা আজ স্বাধীনদেশের নাগরিক এটা মুক্তিযোদ্ধা দের জন্য, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জন্য,একটি ফুলকে
বাঁচাতে বলে যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো, এনে দিয়েছিলো স্বাধীন পতাকা। আজ যদি দেশ স্বাধীন না হতো আমরা হতাম দেশদ্রোহীর সন্তান। এই ভূখন্ডের নাম স্বাধীন বাংলাকরেছে মুক্তিযোদ্ধারা, আমরা গর্বিত তাদের জন্য আজ পতাকা তলে এসে দাড়াতে পেরেছি।

প্রধান আলোচক মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ আতিকুর বাবু বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছে, তেমনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা এদেশকে আরো
সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ কখনও ভুলবার নয়, কিন্তু কিছু কুচক্রীমহল মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের বিরুদ্ধ লেগেছে, কোটা জন্য মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেনি,বঙ্গবন্ধু উপহার হিসেবে দিয়েছিলো, কোটা আমাদের চেতনা, কোটা দিয়ে কি মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ শোধ হয়ে গেলো? মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের এক
হয়ে কাজ করতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়,জেলা-উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা, প্রক্টর প্রফেসর ড.লুৎফর রহমান,বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ
রুনু, রাজশাহী মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড সভাপতি আলিমুল হাসান সজল প্রমুখ।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়, অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সরকার ফারহানা আক্তার সুমি, নবীনবরন অনুষ্ঠানে প্রায় দুইশতাধিক মুক্তিযোদ্ধা, সন্তান ও প্রজন্মরা
উপস্থিত ছিলো।