অষ্টগ্রামে বিএডিসির সেচ পাম্প অবহেলা-অযত্নে, দেখার কেউ নেই

হাওর অঞ্চলে এক ফসলি বোর উৎপাদনী অষ্টগ্রাম উপজেলায় বিএডিসির উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভাসমান সেচের পাম্পগুলো অযত্নে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। বিএডিসির স্থানীয় অফিস খোঁজ খবর না রাখার ফলে একদিকে বিদেশ থেকে আনা এসব ভাসমান সেচের পাম্প ধ্বংস হওযার ফলে সরকারের প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষকদের চাহিদা মতো সেচের পানি সরবরাহে মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলে এলাকার কৃষকরা জানান।

খোঁজখবর নিয়ে ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিএডিসির অষ্টগ্রাম উপজেলা অফিসে একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও একজন মেকানিক কর্মরত রয়েছেন। তবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী অফিসের
সময়ও অফিস না থেকে তার ইচ্ছেমতো অফিসে আসার কারণে তাকে পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়ে বলে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ। ফলে এক ফসলি বোরো উৎপাদনে সেচের জন্য কতগুলো ভাসমান উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভাসমান পাম্পসহ ছোট বড় পাম্প ব্যবহার হচ্ছে, বিএডিসি অফিস থেকে তার কোনো সঠিক হিসেব পাওয়া যায় না।

কয়েকজন কৃষকদের আলাপ করলে তারা বলেন, এই হাওর উপজেলার প্রায় চার শতাধিক পাওয়ার পাম্প উৎপাদন মৌসুমে ব্যবহার হয়ে থাকে।

আর এইসব সেচের পাম্প কৃষকদের নিজেস্ব অর্থায়নে কিনেন তারা। তবে জেলা বিএডিসির অফিস সূত্রে জানা গেছে, অষ্টগ্রামে বিএডিসির উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভাসমান ১১টি পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র পাঁচটি
সচল তাকালেও ছয়টি বিকল রয়েছে। হাওর উপজেলার নদীর তীরবর্তী সেচ প্রকল্পগুলোতে এসব সেচযন্ত্র ছাড়া আবাদের প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করা যায় না। ফলে বিএডিসির পাম্পের অভাবে কৃষকেরা অল্প শক্তি সম্পর্ণূ পাম্প ব্যবহার করে জমিতে পানি দিতে সেচে খরচ হচ্ছে দ্বিগুণ।

আর এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বিএডিসির ভাসমান পাম্পগুলো স্থানীয় অফিসের অবহেলার অযতেœ কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরকারি প্রায়কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্টের পথে।

সূত্র জানান, স্থানীয় অফিসের কতিপয় একশ্রেণির অসাধু লোকজন গোপনে এইসব পড়ে থাকাসরকারি পাম্পের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ বিক্রি করে পাম্পগুলো বিকল করে দিয়ে অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রচুর অর্থ।

এব্যাপারে জানতে অষ্টগ্রাম উপজেলা অফিসে গিয়ে বিএডিসির কর্মরত উপ-সহকারি প্রকৌশলী রওকন জাহানকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে তিনি জানান, তিনি উপজেলায় আছেন। সেখানে গেলেও প্রতিনিধির সাথে ব্যস্ততার অজুহাতে কথা না বলে এড়িয়ে যান।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, অষ্টগ্রামে ১১টি ভাসমান পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি সচল আছে বাকিগুলো বিকল। স্থানীয় অফিসের
গাফিলতির কারণে সরকারের এত টাকা বিনষ্টের কারণ সর্ম্পকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আসলে বিএডিসি অফিসে লোকবল কম থাকার কারণে মূলত এই সমস্যটি হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাওরাঞ্চলবাসী ঢাকার সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান কামরুল হাসান বাবু বলেন, ভুপরিস্থ ও ভুগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য সেচের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রতিষ্ঠানটির অন্যকাজ হলেও হাওরের কৃষকদের জন্য বিএডিসি স্থানীয় অফিসটি কোন ভুমিকা রাখছে না। দায়িত্বরত কর্তা কৃষকদের সামান্যতম কাজ করছেন না। দীর্ঘদিন যাবত বিএডিসির ভাসমান পাম্পগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার ফলে একদিকে সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে কৃষকেরা তাদের সেচ অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে দায়িত্বরত কর্মকতার বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ।