মঙ্গোলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।

আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মঙ্গোলিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে গোলাম রাব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। বাংলাদেশের হয়ে গোল করেছেন মনিকা চাকমা, মার্জিয়া আক্তার ও তহুরা খাতুন।

আগামী শুক্রবার ফাইনালে লাওসের মুখোমুখি হবে মৌসুমী-মনিকারা। প্রথম সেমিফাইনালে লাওস ৭-১ গোলে কিরগিজস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে।

মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচের শুরু থেকে প্রভাব বিস্তার করে খেললেও গোলের দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয় ৪৫+১ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় মনিকা চাকমা ২০ গজ দূর থেকে শট নিয়ে বল জালে জড়ান। তার গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পর আরো দুটি গোলের দেখা পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। ৬৯ মিনিটে মনিকা চাকমার বাড়িয়ে দেওয়া বল নিয়ে মঙ্গোলিয়ার ডি বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন মার্জিয়া। তাকে রুখতে সামনে এগিয়ে আসেন মঙ্গোলিয়ার গোলরক্ষক। কিন্তু গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠান মার্জিয়া।

৮৫ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন বদলি স্ট্রাইকার তহুরা খাতুন। এই গোলেরও যোগানদাতা মনিকা। তার বাড়িয়ে দেয়া বল পেয়ে ডি বক্সের সামনে থেকে শট নেন তহুরা। মঙ্গোলিয়ার দুইজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জালে আশ্রয় নেয়। 

বাকি সময়ে অবশ্য আর কোনো গোল হয়নি। তাতে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তাও করেছেন। অবধারিতভাবে তাই ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। ম্যাচসেরার পুরস্কার হিসেবে তিনি ৫০০ ডলার পেয়েছেন। ম্যাচ শেষে মনিকা বলেছেন, ‘আমাদের সমর্থন দেওয়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। যেহেতু আমরা ফাইনারে উঠেছি সেহেতু সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। যাতে দেশের মাটিতে ফাইনালে আমরা ভালো কিছু করতে পারি।’

ম্যাচসেরা হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে আজকের ম্যাচেই আমি প্রথম ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছি। আমার অনেক ভালো লাগছে। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যাতে পরবর্তীতেও আরো ভালো কিছু করতে পারি।

অবশ্য ফাইনালে বাংলাদেশের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ লাওস। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে চারবার বল জড়িয়েছে। সেমিফাইনালে জড়িয়েছে তিনবার। তিন ম্যাচে বাংলাদেশ ৭ গোল করার পাশাপাশি একটি গোল হজম করেছে। অন্যদিকে লাওস তিন ম্যাচে গোল করেছে ১৮টি!

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে তারা ৫-০ গোলে হারায় মঙ্গোলিয়াকে। দ্বিতীয় ম্যাচে তাজিকিস্তানকে হারায় ৬-০ গোলে। এরপর সেমিফাইনালে তারা ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেয় কিরগিজস্তানকে। ফাইনালে তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশ কেমন খেলে সেটাই দেখার বিষয়।