দেশের খবর - এপ্রিল ৩০, ২০১৯

শহিদ অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব স্মরণে একক বক্তৃতানুষ্ঠান

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বাংলা একাডেমি আজ ১৭ই বৈশাখ ১৪২৬/৩০শে এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার সকাল ১১:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে শহিদ অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব স্মরণে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। গোবিন্দচন্দ্র দেবের সমন্বয়ী দর্শন শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক নীরুকুমার চাকমা। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, দর্শনশাস্ত্রের নিষ্ঠ পণ্ডিত গোবিন্দচন্দ্র দেবের সঙ্গে এদেশের সাহিত্যজগতের সঙ্গে ছিল নিবিড় যোগাযোগ। তিনি এক সময় বাংলা একাডেমির কার্যকরী কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই মানবতাবাদী দার্শনিকের অগ্রচারী ভূমিকা কখনও ভুলে যাওয়ার নয়। ১৯৭১-এর মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলনকালে তিনি রাজপথে বুদ্ধিজীবীদের মিছিলে নেমে সে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। আর ’৭১-এর মার্চে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত নির্মম হত্যাযজ্ঞের স্বীকার হন। শহিদ গোবিন্দচন্দ্র দেবের মানবতাবাদী দর্শনের কোনো মৃত্যু নেই।

অধ্যাপক নীরুকুমার চাকমা বলেন, দর্শনশাস্ত্রের মেধাবী ছাত্র এবং পরবর্তীকালে কিংবদন্তিতুল্য শিক্ষক গোবিন্দচন্দ্র দেব সর্বসাধারণের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘জিসি দেব’ নামে। সমন্বয়ী মানবতাবাদী দর্শন তাঁর আগ্রহের প্রধান কেন্দ্র ছিল। ভাববাদ, ধর্ম, বিজ্ঞান, যুক্তি প্রভৃতিকে একটি অখণ্ড রূপ দিতে চেষ্টা করেছেন তিনি। ছাত্রছাত্রীদের পরিসর ছাপিয়ে পূর্ববাংলার সাধারণ মানুষের কাছে তিনি মানবিক দর্শন প্রচারের ব্রত নিয়ে এগিয়ে গেছেন। দর্শন সম্পর্কিত তাঁর বাংলা ও ইংরেজি রচনা এ দেশের দর্শনশাস্ত্রের বিকাশে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তিনি বলেন, ড. দেব ব্যক্তিজীবনের উদাহরণের মধ্য থেকে দর্শনের সত্যকে অন্বেষন করতেন। তিনি সামষ্টিক লোভের অবসান ঘটিয়ে সামষ্টিক মঙ্গলের প্রত্যাশায় আকুল ছিলেন। বিজ্ঞানের সদর্থক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সম্পদের সমবণ্টন নিশ্চিতকরণের মধ্য দিয়ে সমাজের সব মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলের কামনা করেছেন; তাঁর সমগ্র দর্শনচর্চাই সেই মানবিক অভিমুখকে ধারণ করে আছে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, গোবিন্দচন্দ্র দেবকে অত্যন্ত নিকট থেকে একজন সদালাপী, মানবহিতকামী এবং সর্বমঙ্গল-আকাক্সক্ষী মানুষ হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছি আমরা। তিনি ভাববাদ ও বস্তুবাদের মধ্যে শুভ সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন আজীবন। যুক্তিবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত তাঁর দার্শনিক অবস্থান সবসময় বৃহত্তর মানুষের ইতিবাচক উত্থান প্রত্যাশা করেছে।


আরও পড়ুন