ফাইনাল ম্যাচ বাতিলের পর বাংলাদেশ-লাওস যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন

ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবের কারণে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের ফাইনাল ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। দুই ফাইনালিস্ট বাংলাদেশ ও লাওসকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছে আয়োজকরা।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে সকাল থেকেই ঢাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি। মেঘ-রোদ আর বৃষ্টির লুকোচুরি। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও দর্শকরা হাজির হয়েছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। নির্দিষ্ট সময়ের বেশ আগে দুই দলের খেলোয়াড়রাও মাঠে হাজির হয়ে গা গরম করছিল। কিছুক্ষণ পরপর বৃষ্টি হলেও তাদের গা গরম চলতে থাকে। এমন সময় গুঞ্জন ওঠে ফাইনাল মাঠে গড়াচ্ছে না। বাংলাদেশ ও লাওসকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে।

গুঞ্জন সত্যি হতে দেরি হয়নি। সন্ধ্যায় স্থানীয় আয়োজক কমিটি ও টুর্নামেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, ফণির প্রভাবে ফাইনাল খেলা বাতিল করার। এরপর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে উভয় দলকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী।

তিনি বলেন, ‘ফাইনাল আয়োজনের জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে খেলা মাঠে গড়াতে পারেনি। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় আয়োজক কমিটি ও টুর্নামেন্ট কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে আমরা ফাইনাল ম্যাচটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং উভয় দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করছি। এমন পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সকলের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। প্রাইজমানির যে ৪০ হাজার ডলার (চাম্পিয়নের ২৫ হাজার, রানার্সআপের ১৫ হাজার), সেটা উভয় দলকে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। আর ট্রফিটি টসের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। টসে যারা জিতবে তারা ট্রফি নিয়ে যাবে।’

যেহেতু আগে থেকেই জানা যাচ্ছিল যে, ফণির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। তাহলে ফাইনালটি ৬টার পরিবর্তে এগিয়ে এনে ২টায় শুরু করা যেত কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে মুর্শেদী বলেন, ‘আসলে সে বিষয়েও আমরা আলোচনা করেছি। কিন্তু সবাই ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারিনি। আর চাইলেই তো সবকিছু করা যায় না। তাই এএফসি ও ফিফার নিয়ম মেনে আমাদের বাইলজ অনুযায়ী আমরা যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

যদিও লাওসের ম্যানেজার গাল্ডানসুখ এমন সিদ্ধান্তে খুব একটা খুশি হতে পারেননি। সেটা তার শরীরী ভাষাতেও স্পষ্ট ছিল। তারা শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন ম্যাচের জন্য। তারপরও এই বৃহৎ আয়োজনের অংশ হিসেবে তিনি সবকিছু মেনে নিয়েছেন, ‘মাঠ ও আবহাওয়া খেলার জন্য উপযোগী ছিল। কিন্তু এমন বৃহৎ আয়োজনের আমরাও অংশ। তাই আয়োজক কমিটির সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিয়েছি।’

টুর্নামেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী কে-স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী ফাহাদ করিমও মেনে নিয়েছেন বিষয়টি, ‘আসলে আমরা কেউ-ই এমন পরিস্থিতি চাইনি। এমন একটি সমাপ্তি আমরা কেউ-ই প্রত্যাশা করিনি। কিন্তু দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি আমরা মেনে নিয়েছি। আপনারা জানেন ইতিমধ্যে ঝড়ের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় বেশ কয়েকটি জেলা প্লাবিত হয়েছে। আমি আমাদের স্টেকহোল্ডার সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে যে দেশের এমন পরিস্থিতিতে আমরা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশ আগে দুর্যোগ কাটিয়ে উঠুক। এমন দুর্যোগপূর্ণ সময়ে ফাইনাল আয়োজন করা আসলে সম্ভব নয়।’

একদিন পিছিয়ে ফাইনালটি করা যেত কি না, প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আসলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে কিন্তু আজ মধ্যরাত থেকে সারাদেশে ফণির প্রভাব পড়বে। সেটা কিন্তু শনিবারও থাকবে। এমন একটি পরিসমাপ্তির জন্য আমরা আসলে খুবই দুঃখিত।’

সুন্দরভাবে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট ফাইনাল পর্যন্ত আসায় সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতেও এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ জানান, গোল্ডকাপের যে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এখন বাংলাদেশে আছে, সেটা স্বাগতিকরাই পাবে। আর লাওসের জন্য লন্ডন থেকে একইরকম আরেকটি ট্রফি বানিয়ে সেটা সেই দেশে পাঠানো হবে।

তিনটি করে ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ ও লাওস দুই দলই অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছিল। ফাইনালে তাই দুই দলের রোমাঞ্চকর এক লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিল ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু তাদের সেই রোমাঞ্চে বাদ সাধল ঘূর্ণিঝড় ফণি।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে গত ২৭ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পাঁচ দিন পর শুক্রবার সকালে ভারতের ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানে ফণি। শুক্রবার মধ্যরাতের দিকে এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।