ডোমারে আদালতের আদেশ অমান্য করে নাট্যশিল্পী বাসুদেব রায়ের জমি দখল

নীলফামারীর ডোমারে আদালতের আদেশ অমান্য করে নাট্যশিল্পী বাসুদেব রায়ের পিতার ক্রয়কৃত ও পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া বসতভিটা দখল করে ঘর উত্তোলন করেছে পার্শবর্তী বাড়ীর মৃত শ্যামচরণ রায়ের ছেলে গজেন রায়সহ তার চারভাই। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে গোটা দেশ থেকে প্রতিবাদ সহ নাট্য শিল্পীরা তীব্র নিন্দা ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ডোমার সদর ইউনিয়নের চিকনমাটি দোলাপাড়া গ্রামের মৃত ভবানন্দ রায়ের ৪ ছেলে নবিন চন্দ্র রায়,শতীশ চন্দ্র রায়, কার্তিক চন্দ্র রায় ও শ্যামচরন রায়। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া বাস্তভিটার তাদের ৩দাগে ৩৩শতাংশ জমির মধ্যে ৩ভাই যথাক্রমে নবিন চন্দ্র রায়, শচীশ চন্দ্র রায় ও শ্যামচরণ রায় পর্যায়ক্রমে কার্তিক চন্দ্র রায়ের ছেলে সুজন চন্দ্র রায়ের কাছে বিক্রি করে দেন। গত ১০/০১/৭৮ইং সালে দলিল নং-২৯৪ মূলে ৫১৮৫ দাগে শতীশ চন্দ্র রায় ১০শতাংশ,গত ১২/১২/৭৯ইং সালে দলিল নং-৮৪১৪ মূলে ৫১৮১দাগে শ্যামচরন রায় ০৬শতাংশ এবং ৫১৮৩দাগে ৪শতাংশ মোট ২দাগে ১০শতাংশ এবং গত ২৯/০৩/৮২ইং সালের দলিল নং-৩২৭০মূলে ৫১৮৩দাগে নবিন চন্দ্রের স্ত্রী গৌরমনি বর্মনীর দেয়া দলিল মূলে ৭ শতাংশ এবং অবশিষ্ট ৬শতাংশ জমি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হইয়া ৩৩শতাংশ জমির মালিক হন সুজন চন্দ্র রায়। সুজন চন্দ্র রায়ের মৃতুর পর তার তিন ছেলের বাসুদেব রায়,শুকদেব রায় ও দিনেশ রায়ের নামে ৩৩শতাংশ জমি নাম খারিজ এবং হাল রেকর্ড ভ‚ক্ত হয় এবং সেখানে তাদের বতসবাড়ী রয়েছে।একই জমির উপর পাশাপাশি বাড়ী করে রয়েছে মৃত শ্যামচরন রায়ের ৫ ছেলে গজেন চন্দ্র রায়,জগেশ চন্দ্র রায়,কিষ্ট চন্দ্র রায়,জগন্নাথ চন্দ্র রায় ও প্রহল্লাদ চন্দ্র রায়। গত ২৩/০৬/২০১০ইং সালে সুজন চন্দ্র রায়ের ছেলে উল্লেখিত শ্যামচরন রায়ের ৫ ছেলের নামে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ আইনের ১৪৪ধারায় একটি মামলা করেন।মামলা নং-এমআর ২৬/১১।বিজ্ঞ বিচারক সকল কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে গত ১৪/১০/১৫ইং সালে বাসুদেব রায়ের ২৬শতাংশ এবং গজেন চন্দ্র রায় গংদের নামে ৭শতাংশ জমি ভোগ দখলের আদেশ দেন এবং পরবর্তিতে বাসুদেব রায়ের দখলিও জমিতে গজেন চন্দ্র রায় গংদের না যাওয়ার জন্য আদেশ দেন। আদালতের এ রায়কে অমান্য করে গজেন চন্দ্র রায় গংরা ধীরে ধীরে বাসুদেবের জমিটুকু দখলে নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে বাসুদেব রায় জানান, আমার পিতার ক্রয়কৃত এবং পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৩৩শতাংশ জমিনের উপর গজেন চন্দ্র রায় গংদের বসতবাড়ী থাকায় আদালত তাদের নামে ৭শতাংশ জমি ব্যাতিরেকে অবশিষ্ট জমিনের উপর তাদের নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদেশ দেন। অথচ তারা প্রতিদিন একটু একটু করে আমার অবশিষ্ট জমি দখল করে নিচ্ছে। ১০শতক জমিতে গজেন গংরা দিনে দুপুরে টিনের ঘর উঠিয়ে জবর দখল করেন।এ সময় আমার ভাইসহ প্রতিবাদ করলে গজেন গংরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেয়। তারা সংখ্যায় বেশী হওয়ায় শুধুমাত্র গায়ের জোরে আমার জমি জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি গত ২৩/০৪/১৯ইং তারিখে ডোমার থানায় একখানা ননএফআইআর প্রসিকিউশন মামলা নং-৩৭/১৯ দায়ের করি। বিবাদীপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় আদালতের রায় অমান্যকরে ডিগ্রীকৃত জমি নিজের দখলে রেখে গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করেছে। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে আদালতের রায় পাওয়া জমি উদ্ধারের জন্য ধর্না দিলেও জমি উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় দিন কাটছে বাসুদেবের।

এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা নিবার্হী অফিসার উম্মে ফাতিমার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি এবং বাসুদেব রায়ের কাছে কাগজপত্র জমা নিয়েছি। প্রয়োজনীও ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য ডোমার থানার ওসি (তদন্ত)কে বলা হয়েছে।

ডোমার থানার ওসি(তদন্ত)বিশ্বদেব রায় জানান, প্রসিকিউশন মামলা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরও পড়ুন