চিকিৎসকদের ফেসবুকে অশ্লীল কথা বলা দুঃখজনক

চিকিৎসকদের ফেসবুকের পাতায় অশ্লীল-অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান।

তারকা ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নিয়ে চিকিৎসকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।

মুরাদ হাসান বলেন, ‘‘মাশরাফি একজন মাননীয় সংসদ সদস্য। উনার মতো মানুষ যদি কোনো একটা কথা বলেই ফেলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে তার প্রতিবাদ কি আমি ফেসবুকে করব? নিশ্চয় একজন চিকিৎসক এভাবে প্রতিবাদ করবে না। চিকিৎসকরা সেবা দেওয়ার মানুষ। সেবা করতে গিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আক্রমণ করা দুঃখজনক। যেসব চিকিৎসক এটা করেছেন, তাদের শোকজ করা হয়েছে। এটার সমাধান আমরা করব।’’

সংসদ সদস্য মাশরাফি গত ২৫ এপ্রিল আকস্মিকভাবে তার নির্বাচনী এলাকায় নড়াইল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। হাজিরা খাতায় তিন চিকিৎসকের স্বাক্ষর না দেখে তিনি দুজন চিকিৎসককে ফোন করে কথা বলেন।

ওই কথোপকথনে মাশরাফির বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক চিকিৎসক ফেসবুকে মাশরাফির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরে ফেসবুকে কটূক্তি করা ছয় চিকিৎসককে কারণদর্শাও নোটিস দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ের হাসপাতালের সভাপতি থাকেন সংসদ সদস্য। এলাকার হাসপাতালে সমস্যা থাকলে সেটা দেখভালের দায়িত্বও এমপির।

‘‘উনি (মাশরাফি) সভাপতি হিসেবে গিয়েছেন, রোগীদের কষ্টের কথা শুনেছেন। ডাক্তার সাহেবদের ওই মুহূর্তে পান নাই। যাকে পান নাই নম্বর নিয়েছেন, কথা বলেছেন। কিছু কথার মধ্যে হয়ত একটু ক্ষোভ প্রকাশ হয়েছে। হতে পারে।”

যারা ‘অতি উৎসাহী হয়ে’ ওই ঘটনা ভিডিও করেছেন এবং পরে আবার ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের ওই কাজ কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত ছিল না বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

মুরাদ হাসান বলেন, ‘‘তাদের (চিকিৎসক) সংশোধন হতে হবে, সতর্ক হতে হবে। সম্মানিত-শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে নিয়ে একজন চিকিৎসক কেন এমন ভাষায় লিখবে? তারা  তো সবচেয়ে মেধাবী, তাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। তাদের কাছ থেকে আমরা আরো সহ্য-ধৈর্য প্রত্যাশা করি।’’

এর আগে প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসা কার্যক্রম সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শাহ আলম বীরউত্তম মিলনায়তনে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম শাখা এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।