রাজনীতি - মে ১২, ২০১৯

দীর্ঘ তিন মাস পর জোটের বৈঠক, থাকছে না পার্থের বিজেপি

জোটের টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দীর্ঘ তিন মাস পর ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। তবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এতে সদ্য জোট ছেড়েও যাওয়া আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) থাকছে না।

সোমবার রাজধানীর গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জোটের বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘যে জোট ছেড়ে বিজেপি চলে এসেছে সেই জোটের বৈঠকে থাকা আমার জন্য বিব্রতকর। সেজন্য জোটের বৈঠকে আমি যাচ্ছি না।’ ভবিষ্যতে জোটে ফেরানের উদ্যোগ নেওয়া হলে ২০ দলের ফেরার সম্ভাবনা আছে কি না-জানতে চাইলে তিনি এ সম্পর্কে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, মাহমুদুর রহমানের নাগরিক ঐক্য, আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রি দলকে (জাসদ) নিয়ে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পরে তাতে যোগ দেয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এই জোট গঠনের আগে থেকেই তাতে বিরোধিতা করে ২০ দলীয় জোট নেতারা। তবে তাদের আশ্বস্ত করা হয় উভয় জোট নিয়ে একই সঙ্গে পথ চলতে সমস্যা হবে না বিএনপির। যদিও রাজনীতির মাঠে জাতীয় ঐকফ্রন্ট গঠনের পর আড়ালে চলে যায় ২০ দলীয় জোটের কার্যক্রম। এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয় জোট নেতাদের। যার সর্বশেষ ক্ষোভের বহি:প্রকাশ বিজেপির আন্দালিক রহমান পার্থের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া। এর মাধ্যমে বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে থাকা সম্পর্কের অবসান হয়। পার্থ জোট ছাড়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন সেখানে বলেছেন, জোটের রাজনীতিতে গুরুত্ব হারানোর কারণেই তিনি জোট ছেড়েছেন।

এদিকে পার্থের পথ ধরে জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে আরো কয়েকটি দল। এ নিয়ে ক্ষোভ চরম দানা বেধেছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ চাইছে ২০ দলীয় জোটে থাকা দলগুলোর বড় একটি অংশ। এরই মধ্যে দু-একটি দল হুমকিও দিয়েছে। জোটের অন্যতম দল লেবার পার্টি বিএনপিকে জোট ছাড়তে ২৩ মে পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দিয়েছেন। তা না হলে পার্থের পথ অনুসরণ করার হুমকি দিয়ে রেখেছেন তিনি।

জোটের অবস্থা যখন এমন টালমাটাল তখন তিন মাস পর ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডাকল জোটটি নেতৃত্বে থাকা বিএনপি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি জোটের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল।


আরও পড়ুন