ক্যারিবীয়দের হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরো একবার ব্যাটে-বলে জ্বলে উঠল বাংলাদেশ। সম্মিলিত পারফরম্যান্সে ক্যারিবীয়দের আরেকবার হারিয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল উঠে গেল ফাইনালে।

ওয়ালটন ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ফিরতি দেখায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দলের প্রথম দেখায় ২৬২ রান তাড়ায় বাংলাদেশ জিতেছিল ৮ উইকেটে।

আগামী ১৭ মে হবে ফাইনাল, আবারো মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তার আগে ১৫ মে বাংলাদেশ ও স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের ম্যাচটা এখন ‘ডেড রাবার’। বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটা সাইডবেঞ্চে বসে থাকা খেলোয়াড়দের বাজিয়ে দেখার সুযোগ।

ডাবলিনের মালাহাইডে সোমবার আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৭ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ সেটি পেরিয়ে যায় ১৬ বল বাকি থাকতে।

মুস্তাফিজুর রহমানের ৪ উইকেট ও মাশরাফির ৩ উইকেট বড় ভূমিকা রেখেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আড়াই শর মধ্যে বেঁধে রাখতে। লক্ষ্য নাগালে রাখতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করা দুই স্পিনার সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের অবদানও কম ছিল না অবশ্য। পরে সৌম্য সরকারের টানা দ্বিতীয় ফিফটি ও মুশফিকুর রহিমের প্রথম ফিফটিতে অনায়াসেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। মুস্তাফিজ হয়েছেন ম্যাচসেরা।

এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সুনীল অ্যামব্রিসের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম পাঁচ ওভারে ক্যারিবীয়রা তুলে ফেলেছিল ৩৫ রান। এরপরই দৃশ্যপটে হাজির মাশরাফি। অ্যামব্রিসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক ভাঙেন ৩৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। স্লিপে সৌম্যর দারুণ এক ক্যাচ হওয়ার আগে অ্যামব্রিস করেন ২৩ রান।

তিনে নামা ড্যারেন ব্রাভোর উইকেটও পেতে পারতেন মাশরাফি। তবে ক্যাচ ফেলেন মিরাজ। অবশ্য পরের ওভারে মিরাজ বোলিংয়ে এসেই ফেরান ব্রাভোকে। শাই হোপ ও রোস্টন চেজের প্রতিরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি মুস্তাফিজ। বাঁহাতি পেসার জোড়া আঘাতে প্রথমে ফেরান চেজকে, এরপর ফেরান জনাথন কার্টারকেও।

তখন ৯৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরাজ-সাকিবদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ক্যারিবীয়দের রানের চাকাও অনেকটাই থমকে গেছে তখন। পঞ্চম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন হোপ ও জেসন হোল্ডার। শুরুতে দুজন খেলেছেন ধীরলরে, এরপর বাড়িয়েছেন রান তোলার গতি। দুজনের জুটি স্পর্শ করে শতরান।

আগের দেখায় শেষ দশ ওভারের শুরুতে তিন উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আটকে দিয়েছিলেন মাশরাফি। এবারও ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। নিজের পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন দুই সেট ব্যাটসম্যান হোপ আর হোল্ডারকে।

শেষের দিকে জোড়া আঘাত হানেন মুস্তাফিজও। তাতে আড়াইশর আগেই থেমে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। ১০৮ বলে ৬ চার ও এক ছক্কায় সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেন হোপ। হোল্ডার ৭৬ বলে ৩ চার ও এক হক্কায় করেন ৬২ রান।

১০ ওভারে ৪৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার মুস্তাফিজ। ১০ ওভারে ৬০ রানে ৩ উইকেট নেন মাশরাফি। দুই স্পিনার সাকিব ও মিরাজ এদিনও দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। ১০ ওভারে সাকিব ২৭ রানে ও মিরাজ ৪১ রানে নেন একটি করে উইকেট। অভিষিক্ত আবু জায়েদ রাহী ১০ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন।

লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা হয় দারুণ। এক প্রান্তে সাবধানী শুরু করেন তামিম। অন্য প্রান্তে ঝড় তোলেন সৌম্য। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পঞ্চম ওভারে কেমার রোচকে দুই চার ও এক ছক্কায় তোলেন ১৫ রান। প্রথম পাঁচ ওভারে রান আসে ৩৫।

অ্যাশলে নার্সকে টানা দুই চার হাঁকানোর পথে তামিম পূর্ণ করেন জুটির পঞ্চাশ। এক বল পর অফ স্পিনারকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে তামিম হয়ে যান বোল্ড। ২৩ বলে ৪ চারে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান।

তিনে নামা সাকিব সচল রাখেন রানের চাকা। তার সঙ্গে আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন সৌম্য। ২০১৭ সালের পর সৌম্য ওয়ানডেতে তুলে নেন টানা দুই ফিফটি, ৫৭ বলে।

একটু পরই জোড়া ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। নার্সের তিন বলের মধ্যে ফেরেন দুই সেট ব্যাটসম্যান। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে কাভারে সহজ ক্যাচ দেন সাকিব। লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে এজ হয়ে শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ দেন সৌম্য। ৩৫ বলে ৩ চারে সাকিব করেন ২৯। ৬৭ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৫৪ রান আসে সৌম্যর ব্যাট থেকে।

১ উইকেটে ১০৬ থেকে বাংলাদেশের স্কোর তখন ৩ উইকেটে ১০৭। দল কিছুটা চাপেই। চাপটা আরো বেড়ে যেত নার্স যদি মোহাম্মদ মিথুনকে জীবন না দিতেন। রান আউটের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন নার্স।

মিথুন সুযোগটা কাজে লাগিয়েছেন দারুণভাবে। পরের ওভারে নার্সকেই তার মাথার ওপর দিয়ে হাঁকান দারুণ একটি ছক্কা। আর মুশফিক একের পর এক হাঁকান দারুণ কিছু চার।

এই দুজনের পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে দল এগিয়ে যায় লক্ষ্যের পথে। দারুণ এক ডেলিভারিতে মিথুনকে বোল্ড করে ৮৩ রানের জুটি ভাঙেন হোল্ডার। এরপর বাকি কাজটা সারেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। ফিফটি তুলে নিয়ে মুশফিক ৭৩ বলে ৬৩ করে ফেরেন জয় থেকে ৮ রান দূরে থাকতে। মাহমুদউল্লাহ ৩৪ বলে ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ছয়বারের দেখায় পাঁচবারই জিতল বাংলাদেশ!