বাংলাদেশের প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়

যে কোনও টুর্নামেন্টের ফাইনালে বার বার আক্ষেপের গল্পই লিখেছে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে সেই গল্পটাকে নতুন করে লিখলো মাশরাফিরা। ওপেনার সৌম্য সরকারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে গড়ে দেওয়া মঞ্চে এবার কোনও টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ। ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তারা হারিয়েছে ৫ উইকেটে। 

অথচ এই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগটা এক সময় প্রকৃতির আশীর্বাদে দানে পাওয়ার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিলো বৃষ্টির বাগড়ায়। তাতে না খেলে ফাইনাল জেতার অতৃপ্তিটা হয়তো কাঁটা হয়ে থাকতো মাশরাফিদের মনে। কিন্তু প্রকৃতি সহায় হওয়ায় তা আর হয়নি। যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিজেদের দাপুটে পারফরম্যান্সের জানান দেয় তারা ২৪ ওভারে ২১০ রানের লক্ষ্যটা সহজে জিতে। আর তা সম্ভব হয়েছে ওপেনার সৌম্য সরকারের ঝড়ো ব্যাটিংয়েই।

সৌম্যর ত্রাস ছড়ানো ব্যাটিংয়েই জয়ের ভিত গড়ে বাংলাদেশ। অপরপ্রান্তে শুরুতে ধীর-স্থির হয়ে খেলছিলেন তামিম। শুরুতে সৌম্যর সঙ্গী হয়ে তৃতীয় ওভারে ক্যাচের সুযোগ দিয়েও শুরুতে বেঁচে গিয়েছিলেন। হাতছাড়া হয় তা ক্যারিবীয়দের। তবে ষষ্ঠ ওভারে কোনও সুযোগ দেননি হোল্ডার। গ্যাব্রিয়েলের বলে ১৮ রানে ব্যাট করতে থাকা তামিমকে তালুবন্দী করেন তিনি। নতুন নামা সাব্বির রহমানও ছিলেন ব্যর্থ। সৌম্য ৪১ বলে ৬৬ রান করে ফিরলেও গড়ে দিয়ে যান জয়ের ভিত। এরপর অভিজ্ঞ মুশফিকের ব্যাটে চলছিলো রানের চাকা। সেই মুশফিককে বিদায় দিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দিয়েছেন রেইফার। মুশফিক বিদায় নেন ২২ বলে ৩৬ রান করে। সেই বিপদ আরও বেড়ে যায় মোহাম্মদ মিঠুন দারুণ কিছু শট খেলে ১৭ রানে ফিরলে। তাকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ফাবিয়ান অ্যালেন। এরপর অবশ্য আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সৌম্যর গড়ে দেওয়া মঞ্চে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে প্রথমবার কোনও টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন করিয়ে মাঠ ছাড়েন মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ। মোসাদ্দেকই মূলত জয়টাকে নিয়ে আসেন কাছে। ২৪ বলে ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন। মাহমুদউল্লাহ ছিলেন শান্ত ভঙ্গিতে। ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ দুজনের দৃঢ়তায় ২২.৫ ওভারে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। 

বৃষ্টির আগে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। জবাবে দুই ওপেনার শাই হোপ ও সুনিল আম্ব্রিসের দারুণ ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত সূচনা পায় তারা। বিনা উইকেটে বৃষ্টির বাধার আগে স্কোর বোর্ডে উঠে আসে ২০.১ ওভারে ১৩১ রান। ততক্ষণে ক্রিজে ছিলেন শাই হোপ ৬৮ রানে আর আম্ব্রিস ৫৯ রানে। এরপর বৃষ্টির বাগড়ায় এক পর্যায়ে ম্যাচ বাতিলের আভাসই পাওয়া যাচ্ছিলো। তেমনটি হলে হলে লিগ পর্বে ভালো ফলের কারণে চ্যাম্পিয়ন হতো বাংলাদেশই। অবশেষে দীর্ঘ বিরতির পর ডাবলিনে রোদ হাসলে ম্যাচের পরিধি কামে দাঁড়ায় ২৪ ওভারে।

নতুন করে ব্যাটিংয়ে নামার পর ক্যারিবীয়রা আগের দারুণ সূচনা পুঁজি করতে চেয়েছে শেষ পর্যন্ত। ২৪ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে করতে পেরেছে ১৫২ রান। তাতে ডি/এল মেথডে হয়ে দাঁড়ায় ২১০ রানের লক্ষ্যে।

উইকেট বাঁচিয়ে রেখে ডি/এল ম্যাথডে ভালো পুঁজির অপেক্ষায় সেভাবে মেরে খেলেনি। শুধু ওপেনার শাই হোপের উইকেটটি তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাউন্ডারি মারতে গিয়ে ৭৪ রানে ফেরেন এই ওপেনার। অপরপ্রান্তে অপরাজিত ছিলেন আম্ব্রিস ৬৯ রানে।