তাড়াইল - মে ২১, ২০১৯

তাড়াইলে এলজিএসপি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ৫নং দামিহা ইউনিয়নে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের এলজিএসপির (লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে উপজেলার দামিহা ইউনিয়নে এলজিএসপির মোট বরাদ্দের সিংহভাগই কারচুপি ও দূর্নীতির মাধ্যমে স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও ইউপি’র মেম্বারগন সরকারি নিয়ম বর্হিভূতভাবে নিজ প্রভাব কাটিয়ে মনগড়া কাজ করে যাচ্ছে।

উক্ত ইউনিয়নে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বিভিন্ন কাজের বিপরীতে ১৮ লক্ষ আশি হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে নামমাত্র কাজ করেই নিজেদের পকেট ভারী করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। ওই প্রকল্পে ৪০টি টিউবওয়েল, ৩৬ টি ল্যাট্টিন, ৩৬টি সেলাই মেশিন, ১৮টি রিং পাইপ, ১টি স্মার্টফোন এবং ৬টি প্রকল্পে মাটি কাঁটার কাজের জন্য উল্লেখিত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে শতভাগ কাজ দেখিয়ে টিউবওয়েলের বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করেন স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ মিয়া ও ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আব্দুল মান্নান।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি টিউবওয়েলের বিপরীতে ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরকারি নিয়মনীতি না মেনেই ‘ডি’ ক্লাসের জায়গায় নি¤œ মানের ‘ও’ ক্লাস পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রতিটি টিউবওয়েলের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে এবং প্রতিটি টিউবওয়েল স্থাপনের পর পাকা করার জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা থেকে ১২ শত টাকা করে হাতিয়ে নেন ঐ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার রমজান আলী।

এ ব্যাপারে রমজান আলীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে, তার বিরুদ্ধ আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

দামিহা ইউপি সচিব আব্দুল মান্নানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মেম্বাররা টিউবওয়েলের বিপরীতে কারো কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েছে বলে আমিও শুনেছি।

প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ মিয়া মেম্বারগন টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে কি করা যায় বিষয়টি আমি দেখছি।

৬নং ওয়ার্ডের কাচিলাহাটি গ্রামের ইমান আলীর ছেলে জিলু মিয়া, ইব্রাহিমের ছেলে সাইদুল ইসলাম, আমির উদ্দিনের ছেলে রোকন উদ্দিন জানান, টিউবওয়েল দেওয়ার নাম করে আমাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে নেন ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার রমজান আলী। তাছাড়া, ৩৬টি সেলাই মেশিনের মধ্যে দুটি সেলাই মেশিন তার শ্যালকের মেয়ে এবং তার পুত্রবধুর নিজ বাড়ীতে রেখে দেন।

আরো জানা যায়, উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের এনামুল ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী দুলাল মিয়ার সাথে ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে প্রতিটি টিউবওয়েল পাকা করণসহ বসানো হয়েছে।

ওই প্রকল্পে তদারকি করা উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, আমি সরেজমিনে ২০-২৫টি টিউবওয়েল স্থাপন করা দেখেছি। তবে কি ধরনের পাইপ দিয়েছে তা যাচাই করে দেখা হয় নি। মেম্বার, প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের কথায় আমি বিলে স্বাক্ষর করেছি।

এলাকার জনসাধারণের অভিযোগ, ইউপি সচিব, প্যানেল চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারের যোগ সাজসে ওই ইউনিয়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি হয়েছে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেন।


আরও পড়ুন