জাতীয় - প্রচ্ছদ - মে ২৬, ২০১৯

রাজাকারদের তালিকা তৈরিতে চিঠি যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

রাজাকারদের তালিকা করার উদ্যোগ নিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, থানা ও জেলা পর্যায়ে রাজাকার, আল বদর, আল-শামস সদস্যদের তালিকা সংরক্ষণ করার জন্য চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব রাজাকার, আলবদর, আল শামস থানা ও জেলা-মহকুমা পর্যায়ে সরকারি ভাতা নিয়েছিলেন তাদের তালিকা সংরক্ষণ করতে জেলা প্রশাসকদের গোপন বার্তা পাঠানো হবে। এজন্য মন্ত্রণালয়ে নথি উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগে সংরক্ষিত রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেওয়া হবে। এজন্যও নথি উপস্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যদের দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে আসনগুলো অবৈধভাবে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছিল। নির্বাচিতদের বাদ দিয়ে যাদের সদস্য করা হয়েছিল তাদের নাম স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছিল সংসদীয় কমিটি। স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা প্রস্তুত ও সংরক্ষণে আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ৫ সদস্যদের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্ব করেন। কমিটি সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম এবং কাজী ফিরোজ রশীদ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মাণাধীন ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ’ প্রকল্প কাজের অগ্রগতি আগামী ২৮ মে সকাল ১১ টায় সরেজমিনে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শাজাহান খান জানান, কমিটির পক্ষ থেকে ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ’ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আর সরেজমিনে পরিদর্শনের পর অন্যান্য নির্দেশনা দেওয়া হবে।

তিনি জানান, বৈঠকে আলোচনা শেষে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে থানা, মহকুমা ও জেলা প্রশাসন থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পরবর্তীতে প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে।


আরও পড়ুন