বিলুপ্তির পথে এম্পেরর পেঙ্গুইনের আবাসস্থল

দক্ষিণ মেরুর বিভিন্ন অঞ্চলকে পেঙ্গুইনের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল মনে করা হলেও সাম্প্রতিক দশকগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে এর বসতি। আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কমছে পেঙ্গুইনের সংখ্যাও। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেঙ্গুইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রজাতি এম্পেরর পেঙ্গুইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বসতি বিলুপ্তির পথে। ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের (বিএএস) ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এম্পেরর পেঙ্গুইনের গুরুত্বপূর্ণ বসতি হেলি বে কলোনি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে অ্যান্টার্কটিকার ওয়েডেল সাগরে ভয়াবহ ঝড়ের কারণে বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইনের মৃত্যু হয়। ওয়েডেল সাগরের হেলি বে কলোনি এম্পেরর পেঙ্গুইনের উল্লেখযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ বসতি। এখানে এখন আর আগের মতো পেঙ্গুইনের আনাগোনা চোখে পড়ে না। ২০১৬ সালের ঝড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল পেঙ্গুইনের এই বসতিটি। গত তিন বছরেও সেই ঘাটতি পূরণ হয়নি। বরং ২০১৬ সালের ওই ভয়াবহ ঝড়ের পর ২০১৭ এবং ২০১৮ সালেও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পেঙ্গুইনদের এই বসতিটি। পরপর তিন বছর ধরে ঝড়ের কারণে জন্ম নেওয়া পেঙ্গুইনশাবকের অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়।

এম্পেরর পেঙ্গুইনের জন্য প্রজনন এবং বংশবৃদ্ধির জন্য সমুদ্রে স্থিতিশীল বরফ থাকাটা জরুরি। এপ্রিল মাস নাগাদ ৫০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এরা প্রজননক্ষেত্রে আসে। নারী পেঙ্গুইনরা ডিম পেড়ে খাবারের সন্ধানে সমুদ্রে ফিরে যায়। আর ডিসেম্বর নাগাদ সেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হওয়া পর্যন্ত পুরুষ পেঙ্গুইনরা ডিমে তা দেয়। প্রতিটি পেঙ্গুইন মাত্র একটি ডিম পাড়ে। এম্পেরর পেঙ্গুইনদের গড় আয়ু ২০ বছর হলেও কোনো কোনো পেঙ্গুইন ৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচে।

হেলি বে কলোনি গত ৬০ বছর ধরে সমুদ্রে বরফ স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। প্রতি বছর এখানে ১৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার পেঙ্গুইন প্রজননক্ষম হতো। বিশ্বের মোট এম্পেরর পেঙ্গুইনের শতকরা ১০ ভাগেরই বসতি ছিল এই হেলি বে কলোনি। ফলে এম্পেরর পেঙ্গুইনদের জন্য এটি বেশ নিরাপদ একটি আশ্রয়স্থল ছিল এতদিন। কিন্তু গত তিন বছরে এই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, পৃথিবীর উষ্ণায়ন এই হারে বাড়তে থাকলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এম্পেরর পেঙ্গুইনের এই রাজত্ব।

তবে আশার বাণী হিসেবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হেলি বে কলোনি নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে থাকলেও এর কাছাকাছি জেগে উঠছে পেঙ্গুইনদের জন্য আরেকটি কলোনি ডউসন ল্যাম্বটন কলোনি। নতুন গড়ে ওঠা এই ডউসন ল্যাম্বটন কলোনিতে বছরে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার প্রজননক্ষম পেঙ্গুইনের উপস্থিতি ঘটছে। সূত্র- সিএনএন।


আরও পড়ুন