দেশের খবর - জুন ৮, ২০১৯

বৈমানিকের ‘পাসপোর্টকাণ্ড’ তদন্তে কমিটি গঠন

চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি গত বুধবার রাতে ফিনল্যান্ডের উদ্দেশে রওয়ানা দিলে দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনা তদন্তে শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগমকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের (রাজনৈতিক-১) যুগ্ম সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (রাজনৈতিক-৪) মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী।

জানা গেছে, এই ঘটনার পর ফজল মাহমুদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি দোহা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলামকে। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় বিমানের দোহাগামী নিয়মিত ফ্লাইটে (বিজি-০২৫) তিনি ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

এর আগে ফিনল্যান্ড সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে গত বুধবার (৫ জুন) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি-০২৫) নিয়মিত ফ্লাইটে ৩ জন ককপিট ক্রু ও ১২ জন কেবিন ক্রু ঢাকা ছেড়ে কাতারের উদ্দেশে রওনা দেন। ফ্লাইটটি ওইদিন স্থানীয় সময় রাত ১২টায় দোহা পৌছে। এই ফ্লাইটে ছিলেন পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। অন্যদের কাছে পাসপোর্ট থাকলেও ফজল মাহমুদের কাছে তার পাসপোর্ট ছিল না। দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তা ধরা পড়ে। পাসপোর্ট না থাকায় ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদকে বিমানবন্দর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বের হতে দেয়নি। কিন্তু বাকী ১৪জন বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে দোহা নগরীর ক্রাউন প্লাজা হোটেলে চলে যান। ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ বিমানবন্দরে থেকে যান।

এ সময় ফজল মাহমুদ কাতার ইমিগ্রেশনকে জানান, তার পাসপোর্ট বিমানের ফ্লাইট অপারেশন রুমের লকারে রেখে এসেছেন। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। এদিকে পাসপোর্টটি দোহাতে পাঠানোর জন্য ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ ঢাকায় বিমান কর্তৃপক্ষকে ফোনে অনুরোধ জানান। পরে একটি ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ফ্লাইট অপারেশনের অফিস খুলে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয় এবং বৃহষ্পতিবার বিমান কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্টটি ঢাকা থেকে দোহাগামী কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে পাঠানোর চেস্টা করেন। কিন্তু কাতার এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ পররাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফরোয়ার্ডিং ছাড়া কোন বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট বহন করতে অস্বৃকৃতি জানান। এরপর বৃহষ্পতিবার রাতে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ক্রুদের মাধ্যমে সেই পাসপোর্টটি দোহায় পাঠানো হয়। তারা বিমানবন্দরে ফজল মাহমুদের হাতে পাসপোর্টটি পৌছে দেন। পাসপোর্টটি হাতে পেয়ে তিনি তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রদর্শন করে ২৪ঘন্টা পর বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে শহরে বিমান নির্ধারিত ক্রাউন প্লাজা হোটেলে উঠেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৮ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টোকিও সফর করেন। সেখান থেকে তিনদিনের সফরে সৌদিআরব যান। ৩জুন সৌদিআরব থেকে ফিনল্যন্ড সফরে যান তিনি। ফিনল্যন্ড থেকে রওনা হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি। এরপর দোহা থেকে বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইট ড্রিমলাইনারে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা আসবেন প্রধানমন্ত্রী।


আরও পড়ুন