আন্তর্জাতিক - জুন ৯, ২০১৯

দলীয় পতাকা সরানো নিয়ে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে নিহত ৪

দলীয় পতাকা সরানোকে কেন্দ্র করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা। এতে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি ন্যাজার্টে থানা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ধরে চলা এ সংঘর্ষে নিহতরা সবাই গুলিবিদ্ধ হয়েছে মারা গেছেন। সংঘর্ষের পর ওই এলাকায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

এদিকে এ ঘটনার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ায় স্থানীয় অনেকেই ওই এলাকা থেকে অন্য জায়গায় সরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের হাটগাছা পঞ্চায়েতের ডাঙ্গিপাড়ায় দুটি দলের দুটি সভায় চলছিল। ওই সভা শেষ থেকে দুপক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়ান।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, প্রথমে ওই এলাকায় তৃণমূলের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে তৃণমূলের কর্মীরা বিজেপির পতাকা খুলতে শুরু করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে দাবি করেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। কিন্তু জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পাল্টা অভিযোগ, বৈঠক শেষে মিছিল বের করেছিল করেছিল তৃণমূল। সেই মিছিলে হামলা চালিয়ে ২৬ বছর বয়সী তৃণমূল কর্মী কায়ুম মোল্লাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

রাজ্যের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর দাবি, সংঘর্ষে তাঁদের দলের পাঁচ কর্মীরও মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কথায়, “পাঁচজন বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে তিনজনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। বাকি দুজনের দেহ পুলিশ সরিয়ে ফেলেছে।”  

নিহত বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সুজিত মণ্ডল, তপন মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডলের লাশ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক। তাঁর দাবি, “এছাড়া চারজন নিখোঁজ রয়েছে। ওই চার জনের মধ্যে শঙ্কর মণ্ডল এবং দেবদাস মণ্ডল নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। কিন্তু পুলিশ মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখাতে ওই দুজনের দেহ লোপাট করার চেষ্টা করছে।”  

তবে দেশটির পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এর সত্যতা স্বীকার করা হয়নি বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে সর্বশেষ বলা হয়েছে, বিজেপির দুজন নিহত হয়েছেন। 

অন্যদিকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দাবি, “বিজেপিই আমাদের কর্মীকে প্রথমে গুলি করে এবং পরে কুপিয়ে খুন করে।”

তিনি জানান, দলের ছয়জন মহিলা কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মিনাখাঁ, বসিরহাট ইত্যাদি জায়গায় হাসপাতালে ভর্তি আছে।
 
তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আরো বলেন, “এ ভাবে গায়ে হাত পড়লে আমরাও কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না।”

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে মাত্র দুটি আসনে জিতেছিল বিজেপি। তবে এবার তা বেড়ে হয়েছে ১৮। অন্যদিকে এবারের লোকসভা নির্বাচনে ২২টি আসন পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ৩৪টি আসন।


আরও পড়ুন