দেশের খবর - জুন ১৩, ২০১৯

ঢাকায় এডুকো’র উদ্যোগে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

সুমিত বণিক : প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। যদিও বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) ২০১৮ অনুযায়ী ১৪ বছরের নিচের শিশুদের যেকোনো রকম শিশুশ্রম এবং ১৮বছরের নিচের শিশুদের সকল প্রকার ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নিষিদ্ধ করেছে, তবুও এখনও অনেক শিশু টেম্পুর হেল্পার, গৃহকাজে সাহায্যকারী, ঝালাইয়ের কাজে সাহায্যকারীসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। বাংলাদেশে এখনও ৩.৪৫ মিলিয়ন শিশু শিশুশ্রমের সাথে জড়িত রয়েছে, যাদের ১.২৮ মিলিয়ন জড়িত আছে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের সাথে।

এবছর ‘শিশুশ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। শিশু অধিকার ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে কর্মরত আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংস্থা ‘এডুকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’-এডুকো এবং এর অংশীদার সংস্থা ইএসডিও দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ হতে শিশুদের একটি র‌্যালি বের হয়। উক্ত র‌্যালিতে ২০০ অধিক কর্মজীবি শিশু, কিশোর, শিক্ষকসহ বিভিন্ন উন্নয়নকর্মীবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। র‌্যালী শেষে চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শিল্পকলা একাডেমীর চিত্রশালা প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়।

র‌্যালী উদ্বোধনসহ উক্ত অনুষ্ঠানে এডুকো বাংলাদেশ এর ডাইরেক্টর- প্রোগ্রাম অপারেশন্স আব্দুল হামিদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মোঃ রুহুল আমিন খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যকার ও অভিনয় শিল্পী লিটু আনাম, মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব জামিল আহমেদ এবং এডুকো এবং ইএসডিওর স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

মোঃ রুহুল আমিন খান তার বক্তব্যে শিশুদের দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে সম্বোধন করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার শিশুশ্রম বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে এবং এর কারণ অনুসন্ধানে কাজ করে চলছে। সরকার ইতোমধ্যে ৩৮টি কাজকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। সরকারের বিভিন্ন কাজের সাথে এডুকোর মত সংস্থার কাজের সমন্বয়ের মাধ্যমে শিশুশ্রম নিরসন সম্ভব। ‘

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এডুকোর অধিকার পাঠশালার শিক্ষার্থী, ১০ বছর বয়সী সুইটি আক্তার  শিশুশ্রম সম্পর্কিত তার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলে। সুইটি বলে, ‘আমি বর্তমানে ক্লাস থ্রিতে লেখাপড়া করছি। আমার বাবা নেই, মার অসুস্থতার কারণে আমারই অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালাতে হয়। সকালে স্কুলে ক্লাস করে বাসায় ফিরে মাকে সাহায্য করেই আবার কাজে যেতে হয়। দৈনিক ৩-৪ ঘণ্টা কাজ করে যা পাই, কোনোমতে সেটা দিয়েই সংসার চালাই।‘

অনুষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল হামিদ তার বক্তব্যে শিশুশ্রম নিরসনে এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে এডুকোর কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, ‘এডুকোর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা শিশু অধিকার নিশ্চিত ও সমাজের গতানুগতিক মনোভাব এবং দৃষ্টিকোণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছি।  আমাদের প্রত্যাশা ২০১৯ সালের মধ্যে আরও শিশু শিশুশ্রম থেকে দূরে এসে লেখাপড়ার মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলবে এবং ধীরে ধীরে আমাদের একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে।’


আরও পড়ুন