শেরপুরে গাছের সাথে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন, গ্রেফতার ১

শেরপুরের নকলায় গাছের সাথে বেঁধে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চোখে মুখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে তাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেছে তার ভাসুর ও জা (ভাসুরের স্ত্রী)। এতে ওই গৃহবধূর গর্ভের সন্তান নষ্টও হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। 

এদিকে ভিডিও ভাইরালের পর নির্যাতিত গৃহবধূর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৯ জনকে আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, নকলা পৌর শহরের কায়দা গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছোট ছেলে শফিউল্লাহর সাথে আবাদী জমি নিয়ে দীর্ঘদির ধরে তার সহোদর বড়ভাই আবু সালেহ, নেছার উদ্দিন ও সলিম উল্লাহর বিরোধ ও দেওয়ানী মোকদ্দমা চলছিলো। 

গত ১০ মে ওই জমিতে বর্গাচাষীরা ধান কাটতে গেলে নিজের জমি দাবী করে শফিউল্লাহ ও তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী ডলি খানম বাঁধা দেন। এসময় শফিউল্লাহ পুলিশি সহায়তার জন্য থানায় চলে এলে তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী ডলি খানমকে চোখে মুখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে শফিউল্লাহ বড় ভাই আবু সালেহ ও নেছার উদ্দিনের স্ত্রী লাকি। 

একমাস পর সোমবার (১০ জুন) রাতে নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। 

জানা যায়, নির্যাতনের দেড় ঘন্টা পর পুলিশের একটি দল ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। থানায় মামলা না নিয়ে নির্যাতনের পর রক্তক্ষরণ শুরু হলেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়ার আকুতিও আমলে নেয়নি পুলিশ। তলপেটে লাথি ও নির্যাতনের পর রক্তক্ষরণের কারণে ১২ দিন চিকিৎসা গ্রহণের পরও গর্ভের তিন মাসের শিশুর মৃত্যু হয় বলে জানায় ওই গৃহবধূর।

নির্যাতনের কথা অস্বিকার করে শফিউল্লাহর বড় ভাই নেছার উদ্দিনের জমি জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা ও ধান কাটতে বাঁধা দেয়ায় ওই গৃহবধূকে বেঁধে পুলিশে খবর দেয়া হয়েছে বলে দাবী শফিউল্লার মা ও ভাতিজার। 

এদিকে, এই ঘটনায় শফিউল্লাহ ৩ জুন শেরপুরের আমলী আদালতে সহোদর আবু সালেহসহ ৫ জনকে স্ব-নামে ও আরও অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলে আদালত ঘটনার তদন্ত করতে জামালপুরের পিবিআইকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

ভিডিও ভাইরাল হবার পর পুলিশ মঙ্গলবার (১১জুন) রাতে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে থানায় নিয়ে আসে। গৃহবধূর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৯ জনকে আসামি করে মামলা নেয় পুলিশ। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


আরও পড়ুন