সাহিত্য ও সংস্কৃতি - জুন ১৯, ২০১৯

বাংলা একাডেমি কর্তৃক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ স্মরণে একক বক্তৃতানুষ্ঠান

বাংলা একাডেমি কর্তৃক ০৫ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ১৯ জুন ২০১৯ ইংরেজী রোজ বুধবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ স্মরণে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ : রাষ্ট্র ও রাজনীতির অন্তঃস্বর শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করেন কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। 

স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ তাঁর সাহিত্যকর্মে ধর্মের নামে ভন্ডামির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন যা আজকের দিনেও সমান প্রাসঙ্গিক। 

একক বক্তা ইমতিয়ার শামীম বলেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ইতিহাসের এক ক্রান্তিকালে সাহিত্যসাধনা শুরু করেছেন। শিক্ষাজীবনে বামপন্থী চিন্তার সংবাদ সমকালীন সমাজে তার স্বতন্ত্র মানসম্মত ভূগোল নির্মাণে ভূমিকা রাখে। তিনি নিজে অগ্রসর হয়েও তার সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য নিজের রচনাকে সচেতনভাবে পিছিয়ে রাখতেও দ্বিধাহীন ছিলেন অর্থাৎ লেখক হিসেবে গণমানুষের সমানুপাতিক অগ্রযাত্রায় বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, দেশভাগ ইত্যাদির নেতিমূলক অভিঘাত তার সাহিত্যে উঠে এসেছে অনন্য মাত্রায়। একই সঙ্গে তার রাষ্ট্রচিন্তার বিষয়টিও লালসালু থেকে কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাসের পরম্পরায় বিস্তৃত। কাঁদো নদী কাঁদো-তে তিনি নদীর রূপের অব্যক্ত কান্নাকে ভাষারূপ দিয়েছেন। তেমনি তার ইংরেজি উপন্যাস আগলি এশিয়ান্স-এ উঠে এসেছে শ্রেণিচিন্তা এবং সাম্রাজ্য-কবলিত সময়ে এক বিপন্ন জনপদের গল্প। একক বক্তা বলেন, তলস্তয়কে যেমন ‘রুশ সমাজের দর্পণ’ বলা হয় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্কেও আমরা বাঙালি সমাজের প্রেক্ষিতে তেমন আসনেই অধিষ্ঠিত করতে পারি অনায়াসে। 

সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচনার পরিমাণ সংখ্যায় বেশি না হলেও প্রত্যেকটিই গুরুত্বপূর্ণ এবং দিক-উন্মোচনকারী। উপন্যাস, গল্প, নাটক- সবক্ষেত্রেই তিনি বিশিষ্টতার দাবিদার। ‘একটি তুলসীগাছের কাহিনী’র মতো গল্প সমগ্র বাংলা সাহিত্যেই বিরল। তিনি বলেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ যত বড় মানের সাহিত্যিক সে অনুযায়ী প্রাপ্য স্বীকৃতি তিনি এখনও পাননি। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চয়ই তাকে তার যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করবে। 


আরও পড়ুন