দেশের খবর - জুন ২৬, ২০১৯

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় হাওর পার হচ্ছে ১০ গ্রামের শিক্ষার্থীরা

তাহিরপুর উপজেলার পৈন্ড্রুব দ্বীজেন্দ্র কুমার নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আছে ঝুঁকিপূর্ণ
অবস্থায় । হাওর পাড়ের শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে শ্রীপর দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীনেশ চন্দ্র ২০১১ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা প্রতিষ্টান তৈরী করেন। এতে হাওর পাড়ের হতদরিদ্র ১০ গ্রামের শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ার সুযোগ পেলেও বর্ষা ৬ মাস থাকে খুব ঝুঁকিতে। স্কুল থেকে প্রতিটি গ্রাম অনুমানিক ১কিলোমিটার থেকে শুরু করে ৫ কিলোমিটার দূরত্বেও আছে। তাই স্কুল শিক্ষার্থীরা বর্ষায় নিজেরাই বইঠা হাতে বেয়ে ছোট ছোট নৌকায় ঝুঁকির মধ্যে স্কুলে আসে প্রতিনিয়ত।

আবার দেখা যায় এমন অনেক হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের মা-বাবার নৌকা কেনার সামর্থ না থাকায় স্কুলে যেতে পারে না শিক্ষার্থীরা। তাই হাওর পাড়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি থাকে খুবই কম। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলেন আমরা আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর পর না আসা পর্যন্ত খুব ভয়ে ও চিন্তিত থাকি। কারণ বাড়ি থেকে স্কুলে যেতে হয় হাওরের খাল বিল ফাঁরি দিয়ে। মেঘ বৃষ্টি, ঝড়, তুফান হলে বড় বড় ঢেউ খেলে নদীর পানিতে এ সময় র্দুঘটনা ঘটে খুব বেশি। অনেক শিক্ষর্থীরা এরকম র্দুঘটনায় শিকার ও হয়েছে।

এ ভয়ে অনেক দিন স্কুলে যেতে দেইনা আমাদের সন্তানদের। স্কুল থেকে গ্রামের রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে দূর্ভোগে ভোগতে হচ্ছে আমাদের সন্তানদের ও আমাদের। এ বিষয় নিয়ে উদ্যেগ নেয়ার মত লোক ও নেই আমাদের গ্রামে।

এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মনমোহন রায় তালুকদার বলেন, বিদ্যালয়ের ৩০০ জন শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্টে যাতায়াত করে লেখা-পড়া করতে হয়। এর মধ্যে স্কুলে ব্রেঞ্চ সংকট থাকার কারণে অনেকের দাড়িয়ে ক্লাস করতে হয়। শিক্ষার্থীদের হাওর পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাওয়ার মত সরকারীভাবেও কোন যাতায়াত সুযোগ পাচ্ছে না। এ জন্য একটি বড় নৌকা স্কুলে নেই প্রয়োজনীয় আসবাপত্র ও বিদ্যুৎ দেয়ার দাবী জানান প্রশাসনের নিকট।

দ্বিজেন্দ্র কুমার নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদ হাসান পিন্টু বলেন হাওর পাড়ের
শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বর্ষাকালে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় নিজেরা হাতে বেয়ে আসতে হয়। অনেক এ আবার আসতে সমস্যা হয়, অনেক আসতে ও পারে না।

এতে আসতে না পারা শিক্ষার্থীরা ভাল শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার হার পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকলেও পাসের হার ৭৫ ভাগ।শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা ও গ্রামের লোকজন জানান যদি স্কুল থেকে গ্রামে সরকারী স্থায়ীভাবে রাস্তার সংযোগ করা হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলে এসে ভাল শিক্ষা গ্রহন করতে পারবে শিক্ষা থেকে কেউ বঞ্চিত থাকবে না এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে সাথে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের মনে যোগাবে আত্ববিশ^াস । যারা র্বষা ৬মাসের মেঘ,বৃষ্টি,ঝড়,তুফানের কারণে আতঙ্কে থাকে নৌকা ডুবে যাবে তাদের অন্তত পক্ষে এই ভয়টা আর থাকবে না।


আরও পড়ুন