মেঘনায় ভয়াবহ ভাঙ্গন : যেকোনো সময় ভেঙ্গে যেতে পারে বাংগালপাড়া ও ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নির্মাধীন রাস্তা!

মেঘনা নদীতে ভয়াবহ ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে এবং এ ভাঙ্গনের ফলে দালানপাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জমি জমা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এদিকে হাওর অঞ্চলের সর্বাধিক গুরুত্বপৃর্ন এলজিইডির প্রায় ৪৬ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাধীন অষ্টগ্রামের বাংগালপাড়া, চাতলপাড় সড়ক পথের কাজও মারাত্নকভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে।

জানাযায়, ভৈরব বাজার থেকে প্রবাহিত এই মেঘনা নদী হবিগঞ্জের কাকাইল চেও পর্যন্ত বিভিন্ন নাম ধারন করেছে। ভৌগিলিক কারণে নদীর তীরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন গ্রাম পাড়া মহল্লা, সর্বোপরি হাটবাজার ও ছোটখাটো নদীবন্দর। এই নদী থেকে বেশ কটি শাখা নদীও প্রবাহিত হয়েছে। নৌ-পথে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও র্দীঘদিন যাবৎ অবদান রাখছে। সম্প্রতি ইটনা, মিঠামইন সংযোগ সড়কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তা থেকে বাংগালপাড়া, চাতলপাড়ের সড়কটি ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অজানা কারনে এখনো রোডের কাজ শেষ হচ্ছে না। অন্যদিকে আজমিরীগঞ্জ কাকাইল চেও সহ ভৈরব বাজার পর্যন্ত নৌপথে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করছে। ট্রলার কারগো দিয়ে হাটবাজার ও নদী বন্দরগুলোর আমদানি রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু উত্তর দিক থেকে প্রতিনিয়ত চলে আসা বালি ও পলিতে নদীর বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য চর সৃষ্টি হয়েছে। কোন কোন শাখা নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় উত্তরের পানি দক্ষিনে, স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌ যোগাযোগে তরিত গতির জন্য ইছাপুরের কাছ থেকে গাজীহাটি ও কলমার কাছাকাছি একটি লুপকাটিং এর কাজ করা হয়েছে। বর্ষার পূর্ব মুহূর্তে কালনী ও বরাকের পানি উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হওয়ায় এই লুপকাটিং এ মারাত্নক স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। নদীগুলোতে জেগে উঠা চর ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক অবস্থা না থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজারে নদী সংস্কার করছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সঠিক হচ্ছে না এবং সংস্কারের গতি অত্যন্ত ধীর গতি। ফলে উত্তরে আসা পানির স্রোত বিভিন্ন স্থানে বাধাগ্রস্থ হয়ে ভয়াবহ ভাঙ্গনের সৃষ্টি করছে। ভাংঙ্গছে বাড়ি-ঘর জমিজমা। সম্প্রতি ভাংঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার চাতলপাড় চক বাজারে। বাজারের দালান, দোকানপাট নদীতে তলিয়ে যাওয়ার পর পাশ্ববর্তী ৩টি গ্রামের মানুষ তাদের বাড়ি ঘর জমি জমা নিয়ে চরম আতংক উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছেন। ভাংঙ্গতে শুরু করেছে অষ্টগ্রাম, বাংগালপাড়া, চাতল পাড় একমাত্র যোগাযোগের প্রকল্পের নির্মাধীন সড়ক।

এবিষয়ে হাওরাঞ্চল ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান কামরুল হাসান বাবু বলেন, অপরিকল্পিত নদী খনন করে পানির গতিপথ পরির্বতন এবং আইন না মেনে অপরিকল্পিত ভাবে নদী শাসন যত্রতত্র বালু উত্তোলন করে পানির গতি পথ পরিবর্তন করে নদীর শাখা বদ্ধের এবং দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তাব্যাক্তিদের নীরবতার কারনে এমনটি হচ্ছে।

এব্যাপারে নাসিরনগরের ইউএনও মোঃ সাইফুল কবিরকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, ঘঠনারস্থল পরির্দশন করেছি এবং সর্বচ্চো গুরুত্ব দিয়ে জেলা সমন্নয় সভায় কথা বলেছি ও সরকারের মনোযোগ আর্কষন করেছি। তিনি আরোও বলেন, যেহেতু বাস্তবায়নে পানি উন্নয়ন র্বোড তাই তাদের সাথেও কথা বলার পরামর্শ দেন।

চক বাজারের পাশে ডেবে যাওয়া দালানের মালিকেরা জানান, নদী ভাঙ্গনের কারনে বহু মানুষ আতংক উৎকন্টায় দিন কাটাচ্ছে। এব্যপারে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।


আরও পড়ুন