কিশোরগঞ্জের খবর - জুলাই ২, ২০১৯

জাদুঘরে রুপ নিচ্ছে ঈশা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত জঙ্গলবাড়ি

জাদুঘরে রুপ নিতে যাচ্ছে বৃহত্তর ভাটি রাজ্যের অধিপতি বারভুইয়া নেতা মসনদ-ই- আলা ঈসা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত জঙ্গলবাড়ি। ইতোমধ্যে দুর্গের ভেতরে থাকা পুরাকীর্তির সংরক্ষণ করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। বাড়িটির আশপাশের বেহাত হওয়া জায়গা উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল মহাবীর ঈসা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত জঙ্গলবাড়ী পরিদর্শন করেছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রনাধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সাদেকুজ্জামান, সহকারী প্রত্নতত্ত্বিক প্রকৌশলী জাকির হোসাইন চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত এ প্রতিনিধি দল জঙ্গলবাড়ী পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শনকালে তাঁরা সাংবাদিকদের জানান, মহাবীর ঈসা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত সংরক্ষিত পুরাকীর্তি জঙ্গলবাড়িতে ঈসা খাঁর স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অধিদপ্তর কাজ করছে। দুর্ঘের ভেতরে থাকা ঈসা খাঁর দরবার হল, বসতভিটাসহ মসজিদটিকেও পুর্বের আদলে ফিরিয়ে আনার লক্ষে সংস্কার করা হবে।

লেখক ও গবেষক আমিনুল হক সাদী বলেন, মহাবীর ঈসা খানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটিকে ২০০৯ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে সংরক্ষিত করা হয় এবং ২০১৩ সালে বাড়িটির সামনে পুরাকীর্তি সংরক্ষণের সাইনবোর্ড সাটিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে আমাদের কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কৃতি সন্তান প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ হান্নান মিয়া স্যার অধিদপ্তরে যোগদানের পর মহাবীর
ঈসা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত জঙ্গলবাড়িটিকে সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছেন জেনে কিশোরগঞ্জ জেলাবাসী আনন্দিত।

জঙ্গলবাড়িতে বসবাসরত ঈসা খাঁর ১৫তম অধস্তন পুরুষ দেওয়ান জামাল দাদ খান বলেন, মহাবীর ঈসা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত জংগলবাড়ি নিয়ে কেউ কেউ অনেক স্বপ্ন দেখেছেন,সরেজমিনে এসেছেন কত দেশি
বিদেশী পর্যটক। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে এমপি, মন্ত্রী,সচিব, রাষ্ট্রদ্রুতসহ দেশি বিদেশি অগণিত ব্যাক্তিগণের আনাঘোনা দেখে খুব আশাবাদী ছিলাম যে মহাবীর ঈসা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত
স্থানে কিছু এক্টা হবে। কিন্ত এভাবেই কেটে যাচ্ছে বছরের পর বছর, কোনো আশার আলো দেখতে পায়নি। গত শুক্রবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধীন প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের এক্টি প্রতিনিধি দল এসে প্রতœপ্রেমিদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা শুনালেন। এবার যদি কিছু একটা হয় সে আশায় আশাবাদী।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহর থেকে ১০ কি.মি. উত্তর-পূর্ব দিকে করিমগঞ্জ উপজেলার নরসুন্দা নদীর তীরে বনজঙ্গল ঘেরা একটি স্থান ‘জঙ্গলবাড়ী” নামে পরিচিত।

এ এলাকাটিই বারভুইয়া নেতা মসনদ-ই- আলা ঈশা খাঁ বৃহত্তর ভাটি রাজ্যের অধিপতি হিসেবে রাজ্য পরিচালনা করতেন। তবে বর্তমানে অবশিষ্ট আছে কেবল উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ইটের পাঁচিল দিয়ে ভাগ করা দু’টি চত্বর। স্থানীয়দের নিকট পাঁচিলটি ‘প্রাসাদ প্রাচীর” নামে পরিচিত। এর দক্ষিণ প্রান্তে একটি তোরণ আছে।

তোরণটির সামেনে ‘করাচি” নামে পরিচিত একটি পূর্বমূখী একতালা ভবন আছে। এর উত্তরে একটি তিনগম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ আছে। তোরণের পিছনে ‘অন্দর মহল’ নামে একতলা দক্ষিণ মুখী ভবন
আছে। গোটা ইটের দেয়াল চুনকামসহ গথর লেপন দিয়ে ঢাকা। সম্পূর্ণ নিরাবরণ। সামনে লম্বা একটি পুকুর। মসজিদটির মোগল স্থাপত্যের প্রথাসিদ্ধ রীতির ছাপ রয়েছে।


আরও পড়ুন