ভৈরব - জুলাই ৪, ২০১৯

ভৈরবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কালিকাপ্রসাদে সরকারি সড়ক দখল করে স্থাপনা নির্মাণে বাধাঁ দেয়ায় ওই ইউনিয়নের বর্তমান সংরক্ষিত নারী সদস্য  ফিরোজা বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান  মোঃ ফজলুল কবিরসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে নারী সদস্য ফিরোজা বেগম ভৈরব থানায় ১ টি মামলা দায়ের করেছে।মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলো  সোহাগ মিয়া ও তার স্ত্রী শায়লা বেগম।

গত ৩০ জুন রোববার রাতে ভৈরব থানায় তিনি  এ মামলাটি দায়ের করেছেন ।মামলা দায়েরের পর বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা তুলে নিতে বাদী ও সাক্ষীদের নানাভাবে  প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন বাদী ও সাক্ষীরা।

মামলার এজাহার সূত্রে ও  ইউপি চেয়ারম্যান  ফারুক মিয়া জানান, কালিকাপ্রসাদ মিয়া বাড়ী থেকে কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত চলাচেেলর জন্য (২০১৭-১৮) অর্থ বছরে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচীর আওতায় টি,আর কাবিখার বরাদ্ধ ও সাংসদের বরাদ্ধের আওতায় একটি কাচাঁ সড়ক নির্মাণ করা হয়।

বর্তমানে  এলজি আর ডির তত্বাবধানে সড়কটি পাকা করনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে।

কিন্ত স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবিরের প্ররোচনায় ও শক্তিতে সোহাগ মিয়া ও তার স্ত্রী শায়লা বেগম  গত ১০ মে  কাচাঁ সড়ক কেটে সড়ক দখল করে স্থাপনা নির্মার্ণের জন্য দেয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করে।

এতে ইউনিয়নের নারী সদস্য ফিরোজা বেগম বাধা দিলে, ফজলুল কবির, সোহাগ মিয়া ও তার স্ত্রী শায়লা বেগমসহ ১০/১২ জন লোক ফিরোজা বেগমকে  মারধোর ও টানা হেচঁড়া করে শ্লীলতাহানি করে। এ সময় কাজল মিয়া, ইলিয়াছ খান ও জাকির হোসেন ফিরোজা বেগমকে বাচাঁতে এগিয়ে এলে তাদের উপর ও হামলা চালিয়ে  মারাত্বক জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে  স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী ইউপি সদস্য ফিরোজা বেগম জানান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবীরের প্ররোচনা ও শক্তিতে  সোহাগ মিয়া সড়ক কেটে ও দখল করে স্থাপনার দেয়াল নির্মাণ করছে। এতে বাধা দিলে তারা আমাকেসহ আরো ৩ জনকে মারধোর করে গুরুতর আহত ও শ্লীলতাহানি করেছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক মিয়া জানান, একসময় মিয়া বাড়ি থেকে হাই স্কুল পর্যন্ত কোনো সড়ক না থাকায় স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সড়কটি নির্মাণ হওয়ায় এ এলাকার জনগণের ভোগান্তির শেষ হয়েছে। কিন্ত সড়কটি দখল করে স্থাপনা নির্মাণে বাধাঁ দেওয়ায় নারী সদস্যসহ কয়েকজনকে মারধোর করে আহত করার ঘটনায় ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষী কে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তারা আমার নব-নির্মিত ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতলা ভবনের নেও ভেঙে ইট তুলে ফেলে দিয়েছে।

এ বিষয়ে  সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবির জানান,  বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে মিমাংসার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার  তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রাসেল মিয়া  মামলা দায়েরের কথা স্বীকার করে বলেন, উভয় পক্ষ  আলাদা আলাদা  ২টি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি  পিবিআই তদন্ত করছে।


আরও পড়ুন