কিশোরগঞ্জে শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুলিশের ফুলেল শ্রদ্ধা

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার তিন বছর অতিবাহিত হচ্ছে আজ। ২০১৬ সালের আজকের এই দিনে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে পুলিশের নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় চালায় জঙ্গিরা। হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এক গৃহবধু ও এক হামলাকারী নিহত হয়। এ উপলক্ষে রবিবার কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের আয়োজনে বোমা হামলায় শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্প স্তবক অর্পণ করে জেলা পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার)। পুষ্প স্তবক অর্পণশেষে শহীদদের বিদেহী আতœার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার তিন বছর অতিবাহিত হলেও আতংক এখনও কাটেনি এমন দাবী এলাকাবাসীর। স্বজনদরে অভিযোগ ভয়াবহ এ জঙ্গি হামলা মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে ধীর গতিতে। ২০১৬ সালের ৭ জুলাই সকালে শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে মুফতি মুহাম্মদ আলী মসজিদের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে তল্ল্যাাসীর সময় হামলা চালায় জঙ্গিরা। বোমা আর গুলির শব্দে কেঁপে উঠে শোলাকিয়া ময়দানের আশপাশ। আজও সেই দু:সহ স্মৃতি তাড়িত করে এলাকার মানুষকে। ঘটনার সময় নিজের ঘরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গৃহবধূ ঝর্ণা ভৌমিক। এখনও শোকে কাতর তার স্বজনরা।

এরই মধ্যে জঙ্গি হামলা মামলায় শুরু হয়েছে বিচার কার্যক্রম। তবে জঙ্গিদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে হলি আর্টিজানসহ অন্যান্য মামলা থাকায় তাদরে নিয়মিত আদালতে হাজির করা যাচ্ছেনা।

হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে পূনর্বাসনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার কথা উল্লেখ করে এ মামলায় জঙ্গিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশাবাদের কথা জানান, কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম।

তিনি জানান, শোলাকিয়া হামলার ঘটনায় ওই বছরের ১০ জুলাই কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে কারাগারে আছে জেএমবি সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, অনোয়ার হোসেন, সোহেল মাহমুদ, রাজীব গান্ধী ও জাহিদুল হক তানিম নামে ৫ জঙ্গি। ইতিমধ্যেই এ মামলার চার্জ গঠন করা হয়েছে এবং সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য আছে। এ ঘটনাটি সফলভাবে তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।


আরও পড়ুন