কিশোরগঞ্জের খবর - জুলাই ৭, ২০১৯

শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার তিন বছর

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার তিন বছর আজ। ২০১৬ সালের এই দিনে শোলাকিয়া ঈদগাহের অদূরে মুফতি মুহাম্মদ আলী মসজিদের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা।

হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এক গৃহবধূ, এক জঙ্গিসহ নিহত হয় ৪ জন। এ ছাড়া জঙ্গি, পুলিশ ও মুসল্লিসহ অন্তত ১৬ ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। সেদিনের দেশ কাঁপানো সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজো তাড়িয়ে বেড়ায় এ এলাকার মানুষকে।

এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় গত বছরের ২৮ নভেম্বর বিচারিক আদালতে পাঁচ জঙ্গি মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাজিব গান্ধী, আব্দুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, আনোয়ার হোসেন ও জাহিদুল হক তানিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

জঙ্গি মিজান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবপুর উপজেলার হাজারদিঘা গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে, রাজিব গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিম রাঘবপুর ভূতমারা গ্রামের মৃত মাওলানা ওসমান গণির ছেলে, সোহেল মাহফুজ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর সাদপুর কাতলিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে, আনোয়ার গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পান্থাপাড়া গ্রামের মৃত হাকিম উদ্দিন আকন্দের ছেলে এবং তানিম কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিম তারাপাশা এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

এর আগে ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচারিক আদালতে পুলিশ শোলাকিয়ার হামলা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। এ জঙ্গি হামলায় ২৪ জনের সম্পৃক্ততার কথা উঠে আসলেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকায় ১৯ জন ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হওয়ায় অভিযোগপত্রে আসামির তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়।

কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক জানান, ইতিমধ্যেই এ চাঞ্চল্যকর মামলাটির চার্জ গঠন সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালত সাক্ষীর জন্য প্রস্তুত। সাক্ষীর জন্য ২২ জুলাই তারিখ ধার্য্য আছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) বলেন, পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সফল তদন্ত শেষে মামলাটির চার্জশিট দিয়েছে। এ দেশ কাপাঁনো জঙ্গি হামলা আমাদের জন্যও বিশেষ বার্তা ছিল। আজকে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কবস্থা গ্রহণ করে এদের নির্মূল করতে পারছি। এ মামলার সব আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করি।

এ ছাড়াও তিনি জানান, ওই ঘটনায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। আহতদেরও চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ সহযোগিতা করা হচ্ছে। এমনকি নিহত ওই গৃহবধূর এক সন্তানকেও চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহে জামাত শুরুর কিছু আগে। সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঈদগাহের কাছে মুফতি মুহাম্মদ আলী মসজিদের কাছাকাছি পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায় জঙ্গিরা। দুপুর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে দফায় দফায় বন্দুকযুদ্ধ চলে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পুলিশের দুই কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম ও অানসারুল হক এবং স্থানীয় গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক। হামলার সময় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলে নিহত হন আবির রহমান নামের এক জঙ্গি। আহত অবস্থায় আটক করা হয় শফিউল ইসলাম নামে আরেক জঙ্গিকে। পরে শফিউল র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নান্দাইলের ডাংরী এলাকায় মারা যান। ঘটনার তিন দিন পর কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।


আরও পড়ুন