হেরে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পেলো অস্ট্রেলিয়া

শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে ব্যর্থ হলো অস্ট্রেলিয়া। শনিবার ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১০ রানে হেরে রাউন্ড রবিনের খেলা শেষ করলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

এই হারে দ্বিতীয় স্থানে থেকে সেমিফাইনাল খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। ৯ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট তাদের। আগামী বৃহস্পতিবার বার্মিংহামে তাদের শেষ চারের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। আর ১৫ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে থাকা ভারত মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনাল খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

ফাফ দু প্লেসির ম্যাচসেরা ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩২৫ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাকে পাল্টা জবাব দিয়ে সেঞ্চুরি করেন ডেভিড ওয়ার্নার। কিন্তু বৃথা যায় তার ইনিংস। ৪৯.৫ ওভারে ৩১৫ রানে অলআউট হয় অজিরা। টানা দুই জয়ে ৯ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করলো প্রোটিয়ারা।

৩২৬ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় ওভারে অ্যারন ফিঞ্চ (৩) ইমরান তাহিরের বলে এইডেন মারক্রামের ক্যাচ হন। উসমান খাজা হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট নিয়ে মাঠের বাইরে যেতে বাধ্য হন পঞ্চম ওভারে। এরপর নামেন স্টিভ স্মিথ। ‍কিন্তু দলীয় ৩৩ রানে বিদায় নেন তিনিও। ৭ রান করে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের কাছে এলবিডাব্লিউ হন স্মিথ।

অজিরা এই ধাক্কা সামলে ওঠে মার্কাস স্টোইনিসের সঙ্গে ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটে। দুইজনে ক্রিজে থেকে ৬২ রান যোগ করেন। ৩৪ বলে ২২ রান করে স্টোইনিস বিদায় নেন রান আউট হয়ে। দলীয় ১১৯ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠছাড়া হন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (১২)।

একপ্রান্ত আগলে রাখা ওয়ার্নার উপযুক্ত সঙ্গ পান অ্যালেক্স ক্যারির কাছ থেকে। তাদের ১০৮ রানের জুটি আবার পথে ফেরায় অজিদের। ১১৭ বলে ১৫ চার ও ২ ছয়ে ১২২ রান করে প্রিটোরিয়াসের শিকার হন ওয়ার্নার। এই ওপেনারের বিদায়ের পর ক্যারির ব্যাটে লড়াই চালিয়ে যায় অজিরা।

পরপর দুই ওভারে প্যাট কামিন্স (৯) ও ক্যারি আউট হলে আবার পিছিয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ৬৯ বলে ১১ চার ও ১ ছয়ে ক্যারি ৮৫ রান করে ক্রিস মরিসকে উইকেট দেন। ৬ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়া উসমান খাজা ৪৬তম ওভারে ফের ক্রিজে নামেন। মিচেল স্টার্কের সঙ্গে ‍২৬ রানের জুটি ছিল তার।

শেষ ২ ওভারে ২৫ রানের দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু ৪৯তম ওভারে কাগিসো রাবাদা জোড়া আঘাতে বিদায় করেন খাজা (১৮) ও মিচেল স্টার্ককে (১৬)। শেষ ওভারে দরকারি ১৮ রান করতে পারেনি জেসন বেহরেনডর্ফের সঙ্গে ক্রিজে থাকা নাথান লায়ন। আন্দিল ফেলুকাও ১ বল বাকি থাকতে লায়নকে (৩) আউট করে জয় নিশ্চিত করেন। ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন বেহরেনডর্ফ।

রাবাদা ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে প্রোটিয়াদের সেরা বোলার। এছাড়া প্রিটোরিয়াস ও ফেলুকাও দুটি করে উইকেট নেন।


আরও পড়ুন