তিস্তা তীরবর্তী ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে রংপুরে নদীর তীরবর্তী ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে ডুবেছে ফসলের ক্ষেত, দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট। জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকালে মুষলধারে বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীতে পানি বেড়ে যায়। লালমনিরহাটের দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গঙ্গাচড়া উপজেলার নদীর তীরবর্তী লহ্মীটারী ইউনিয়নের চর শংকরদহ, চর ইচলী, বাগেরহাট, জয়রামওঝা, ইসবকুল গ্রামের ১০ হাজার পরিবার ও আলমবিদিতর ইউনিয়নের সাউথপাড়া, পাইকান, ব্যাংকপাড়া, হাজীপাড়া, আলমবিদিতর গ্রামের ৫০০ পরিবার পান্দিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে পাটসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

চর শংকরদহ গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৫৮) বলেন, হঠাৎ করে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আমরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে ঘরের চৌকিতে আশ্রয় নিয়েছি। পানি আরো বাড়লে বাড়িতে থাকা যাবে না।

ইচলী গ্রামের মনোয়ারা বেগম বলেন, পানি বাড়ির আঙিনায় ঢুকেছে। ঘরের বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। কাজ না করলে খাব কী? এখন পর্যন্ত কোনো মেম্বার-চেয়ারম্যান আমাদের সাহায্য করতে আসে নাই।

লহ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল হাদী বলেন, তিস্তার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় আমার ইউনিয়নের চর এলাকার ১০ হাজার মানুষ পান্দিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদেরকে ত্রাণ সহায়তা দিতে উপজেলায় যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছি। তিস্তার পানি যেভাবে তেড়ে আসছে, তাতে বন্যা দেখা দিতে পারে।


আরও পড়ুন