দেশের খবর - জুলাই ১০, ২০১৯

ফেসবুকে প্রেম, বিয়ের জন্য জঙ্গি হওয়ার শর্ত!

চট্টগ্রামের একটি কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে পড়তেন সাফিয়া আক্তার তানজী। ফেসবুকে একটি নারী গ্রুপে জান্নাতুল নাঈমাসহ (২২) কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় তার। ফেসবুক বন্ধুদের আরেক ছেলে বন্ধু সহিফুল ওরফে সাইফের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। পরিচয় থেকে প্রেম। এরপর বিয়ের জন্য সাইফের গ্রামের বাড়ি বরিশালের পথে ঘর ছাড়েন তানজী।

বরিশালে আসার পর তানজীকে শর্ত দেওয়া হয়, সাইফকে বিয়ের আগে অবশ্যই কোরআনে হাফেজ হতে হবে, জঙ্গি হতে হবে। এ জন্য তাকে একটি মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যেই চলে তাকে জঙ্গিবাদে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লে. কর্ণেল এমরানুল হাসান এ তথ্য জানান।

এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বরিশাল নগরীর একটি মাদরাসা থেকে প্রথমে তানজীকে উদ্ধার করেন র‌্যাব সদস্যরা। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে  নিষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য জান্নাতুল নাঈমাকে (২২) আটক করা হয়। নাঈমার তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ডেমরা থেকে মো. আফজাল হোসেন (২৩) নামে আনসার আল ইসলামের আরেক সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।

এমরানুল হাসান জানান, গত ২৬ জুন সকালে সাফিয়া আক্তার তানজী (২২) বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে তাকে বরিশাল থেকে উদ্ধার করা হয়। তানজী জানিয়েছে ফেসবুক থেকে প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে সে বরিশাল যায়। এজন্য তাকে ফেসবুকের ওই গ্রুপের নারী সদস্যরা প্ররোচনা দেয়।

এমরানুল হাসান বলেন, ‘নাঈমা চট্টগ্রামের একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী। তিনিও ফেসবুকে একটি গ্রুপের নারী সদস্যদের মাধ্যমে প্ররোচিত হয়ে আনসার আল ইসলামের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এখন তিনি আনসার আল ইসলামের মহিলা সদস্য বৃদ্ধিতে দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি বেশ কয়েকজন নারীকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এছাড়া মো. আফজাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে আনসার আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত। তিনি ঢাকার পাশের একটি এলাকার স্থানীয় সংগঠক।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সংগঠনে নারী সদস্যদের অন্তর্ভূক্তি ও তাদেরকে নাশকতার কাজে লাগানোর পরিকল্পনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান এমরানুল হাসান।


আরও পড়ুন