অষ্টগ্রাম - জুলাই ১১, ২০১৯

হাওরে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

বিস্তৃর্ণ হাওর অঞ্চলের অষ্টগ্রাম, মিঠামইন, ইটনা, হবিগঞ্জের আজমেরিগঞ্জ, লাখাই, বানিয়াচং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, সরাইল ও প্বাশবর্তী উপজেলার দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলছে। এক সময়ে এ হাওর উপজেলা গুলোতে দেশীয় মাছ স্থানীয় চাহিদা পূরন করে জাতীয় পর্য্যায়ের বাজার বন্দরে বাজার জাত সহ পর্য্যাপ্ত মাছ বিদেশে রপ্তানী করা হত। এখন আর তা হয়না বললেই চলে। মাছের দুর্মূল্য ও দুষপ্রাপ্যতায় এ হাওর উপজেলা গুলোর সাধারন মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্ঠিসাধনে ব্যার্থ হচ্ছে।

খামারের মাছই এখন বাজারগুলো দখল করে ফেলেছে।অভিজ্ঞ জেলেও গন্যমান্য লোকজনের ভাষ্য হাওর উপজেলা থেকে ৫০ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। এক সময়ে দেশের মৎস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত হাওর উপজেলা গুলোতে অগনিত নদী বিলবাদার
হাওরখালে পরিপূর্ন ছিল। মিটা পানিতে পরিপূর্ন এ উপজেলায় প্রায় ২৫০ প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। মাছের জন্য সুপ্রসিদ্ধ এ উপজেলায় দেশ বিদেশের লোকজন এসে মাছ শিকার এবং মাছের তৈরি সু-স্বাদু খাবার খেয়ে পরিবারের লোকজনের জন্য মাছ নিয়ে যেত। কিন্তু এখন আর তা নেই। নদী গুলোর নাব্যতা হ্রাস খাল বিল ভরাট করে কৃষি ক্ষেত অথবা বাড়ী ঘর তৈরী জলমহাল গুলোতে ইজারাদারদের সেচ্ছাচারিতা, মাছের অভয় আশ্রয়স্থলের পার্শবর্তী জমি গুরোতে কীটনাশকের ব্যাবহারে মৎস সম্পদ উজার হয়ে গেছে।

এছাড়াও অপরিকল্পিত ভাবে বাঁধ সৃষ্টি করে মাছের চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি,সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিষ প্রয়োগে পাটি বাঁধে ও বিলের পানি সেচের মাধ্যমে মাছ আহরন কারেন্ট জাল মশারী জালে রেনুপোনা ও মাছ ধরার কারনে এ হাওর অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং বিলুপ্ত হতে চলছে। বিলুপ্ত হওয়া প্রধান মাছ গুলোর মধ্যে রয়েছে, নানিদ মাছ, মাশুল মাছ, পাঙ্গাশ মাছ, টাকামাছ, কৈ মাছ, মাগুর মাছ, শিং মাছ, বাতাসী মাছ, গুং মাছ, রানী মাছ, পান মাছ, মৃগা মাছ, রিডা মাছ, খৈলিশা মাছ, বৈচা মাছ, কানলা মাছ, বামট মাছ, পাপদা মাছ, চেং মাছ,
বাঘাইর মাছ, বেংরা মাছ, সিলুন মাছ, খল্লা মাছ, লাচ মাছ, এলগন মাছ, রামচেলা মাছ, গিলাকানি নাপিত মাছ ও গলদা চিংড়ি।

এছাড়া ও বিলুপ্তির পথে প্রধান মাছ গুলোর মধ্যে রয়েচে ইালশ মাছ, মলা মাছ, রুই মাছ,কাতলা মাছ, বজরী মাছ, হালনী মাছ, ডান কানা মাছ, গুতুম মাছ, স্বরপুটি মাছ, চান্দা মাছ, ডিমা চিংড়ী, বাইম মাছ ও মেনি মাছ। অষ্টগ্রামের, আব্দুল্লাপুর, আদমপুর, মহনতলা, ইকুরদিয়া, বাংগালপাড়া, সাভিয়ান গর,কাস্তুল, অষ্টগ্রাম সদর,পূর্ব অষ্টগ্রাম, মিঠামইনের ঘাগড়া, ঢাকী, সদর, ইটনার, এলংজুরি, ধনপুর, জয়সিদ্ধি, আজমেরি,পাহারপুর,বদল পুর, খাকাইলচেও, বানিয়চং সদর, নতুনবাজার, ইকরাম, বিথলংবাজার, লাখাইবাজার, বামৈরবাজার, মুড়াকুড়ি, নাসিরনগরের সদর, চাতলপাড়, ফাউন্দাক, গোয়ালনগরসহ হওরের ভিবিন্ন হাট- বাজার গুলো ঘুরে দেখা গেছে,খামারের মাছই বাজার ভরপুর।

নদী ও হাওরে দেশীয় প্রজাতীর মাছ মাঝে মধ্যে পাওয়া গেলেও এগুলোর দাম অত্যান্তচড়া এবং সাধারন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।খামারের মাছের দাম আনুপাতিক হাড়ে কম।

এব্যপারে একাধিক মাছ বিক্রেতা কে জিজ্ঞাসা করা হলে এরা প্রতিনিধিকে জানান, দেশীয় প্রজাতীর মাছ খুবই কম পাওয়া যায় এবং দাম বেশী।এছাড়া ও ফড়িয়া ব্যাপারীরা নদী ও হাওর থেকে এগুলো কিনে
ভৈরব,কুলিয়ারচর,আশুগঞ্জ,হবিগঞ্জ চালান করে দেয়। পরে রাজধানী শহর ঢাকা,চিটাগাং সহ জাতীয় পর্যায়ের বাজার গুলোতে এ মাছ বাজার জাত করা হয়ে থাকে।

এই ব্যাপারে হাওরাঞ্চলবাসী ঢাকা কমিটির,সাধারন সম্পাদক রোটারিয়ান কামরুল হাসান বাবু বলেন,ইজারাদারদের স্বেচ্ছাচারিতা মনোভাব ও অধিক মুনাফার কারণে অবৈধ জাল দিয়ে মা মাছ ও পোনা মাছ অবাধে নিধনের ফলে এমনটি হচ্ছে।যদি প্রজননকালীন সময় স্থানীয় প্রশাসন সঠিক ভাবে নজর রাখে তাহলে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি হবে। এবং প্রজননকালীন সময় যদি কার্ডধারী জেলেদের কে বিশেষ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাহলেই দেশীয় মাছ বৃদ্ধি পাবে।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, দেশীয় মাছ বেশি ছাড়তে হবে, অভায়াশ্রম করতে হবে ও প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে, প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। প্রজনন মৌসুমে কার্ডধারীদের জেলেদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা আছে কিনা এমন প্রশ্নের উওরে তিনি বলেন, এই বিষয়টি ইলিশ মাছের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এখানে দেওয়া হয়না তবে আগামী জেলা সভায় এই বিষয়ে আলাপ করা হবে।


আরও পড়ুন