৫ ঘণ্টা পর নিউ ইয়র্কে বিদ্যুৎ ফিরেছে

শনিবার সন্ধ্যায় বড় ধরণের বিপর্যয়ের পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে বিদ্যুৎ ফিরেছে। জ্বালানি কোম্পানি কন এডিসন জানিয়েছে, শহরের সবচেয়ে জনবহুল এলাকা ম্যানহাটনের সত্তর হাজারেরও বেশি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিপর্যয়ের কবলে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় শহরের পাতাল রেল, লিফটেও আটকা পড়েন অনেকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকে নিউ ইয়র্ক শহর।

১৯৭৭ সালের ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের বার্ষিকীর দিনে এবারে আবারও নিউ ইয়র্কে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটলো। ৭০-এর দশকের ওই বিপর্যয়ে নিউ ইয়র্কের গগণচুম্বী ভবনগুলো অন্ধকারের কবলে পড়ে আর লুটপাটসহ নানা অরাজকতা শুরু হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় আবারও বিদ্যুৎ বিপর্যয় শুরু হওয়ার পর মধ্যরাতের আগে কন এডিসনের প্রধান জন ম্যাকঅ্যাভয় বলেন, বিপর্যয়ের কবলে পড়া ছয়টি নেটওয়ার্ক সচল হয়েছে। তিনি জানান, একটি সাবস্টেশন থেকে এই সমস্যা শুরু হয়েছে। তবে এর কারণ অনুসন্ধানে এখনও তদন্ত চলছে।

নিউ ইয়র্কের অগ্নি নির্বাপণ দফতর জানিয়েছে, ব্যাপক এলাকা জুড়ে এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে। সড়ক বাতি ও ট্রাফিক লাইটও হয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকার ভবন খালি করতেও বাধ্য হয় তারা। পাতাল রেলে বেশ কয়েকজন যাত্রী এক ঘণ্টা ধরে আটকে পড়ার পর ট্রেন ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয় মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন কর্তৃপক্ষ।

বাতিল করা হয় শনিবার রাতের বেশ কয়েকটি শো। ফলে থিয়েটার দর্শণার্থীরা ভেন্যুর বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। বাতিল হয়ে যায় ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে গায়িকা জেনিফার লোপেজের একটি শো। জনপ্রিয় এই গায়িকা টুইট বার্তায় জানান, শো বাতিলের ঘটনায় দুঃখ পেয়েছেন তিনি।

বিদুৎ চলে যাওয়ার সময়ে বারে যাচ্ছিলেন অ্যালেক্স হ্যামারলি (২৬)। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘৪৫টি ব্লকে পাতাল ট্রেন নেই। অর্ধেক ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। এটা বিরক্তিকর। আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি যে মানুষ এখনও উন্মত্ততার প্রকাশ ঘটাচ্ছে না। পুলিশ শুধু রাস্তা আটকানোর চেষ্টায় আছে’।

নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও বলেন, পুলিশ বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে কোনও অপরাধের জন্য বিদ্যুৎহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। টুইটারে তিনি লেখেন, এটা একটা যান্ত্রিক ইস্যু ছিল।


আরও পড়ুন