সাহিত্য ও সংস্কৃতি - জুলাই ১৫, ২০১৯

বাংলা একাডেমি কর্তৃক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ স্মরণে একক বক্তৃতানুষ্ঠান

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বাংলা একাডেমি ৩০শে আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ১৪ই জুলাই ২০১৯ রোজ রবিবার বিকেল ৪:০০টায় বহুভাষাবিদ, গবেষক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ স্মরণে একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। 

ভাষাতাত্ত্বিক শহীদুল্লাহ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক হাকিম আরিফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। 

স্বাগত বক্তব্যে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠায় যেমন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মতো মনীষীদের মহৎ স্বপ্ন কাজ করেছে তেমনি একাডেমিও মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে স্মরণে রেখেছে নানা মাত্রিকতায়। তার নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলা একাডেমির মূল ভবন। এছাড়া একাডেমি প্রকাশ করেছে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ স্মারকগ্রন্থ এবং শহীদুল্লাহ রচনাবলি, যা পাঠক সমাজের বিপুলভাবে আদৃত হয়েছে। 

একক বক্তা অধ্যাপক হাকিম আরিফ বলেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ আমাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ প্রাচ্যদেশীয় পণ্ডিত যিনি মূলত জ্ঞান অন্বেষণের জন্য তার জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। তার এই পাণ্ডিত্যের খ্যাতি শুধু বাংলাদেশ নয় বরং সমগ্র উপমহাদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। শহীদুল্লাহ এই পাণ্ডিত্য ও খ্যাতির পিছনে যে মূলসূত্রটি অনুঘটকরূপে কাজ করেছে সেটি হচ্ছে তার ভাষাপ্রেম এবং ভাষাবিশ্লেষণের অপরিসীম দক্ষতা ও স্বতঃস্ফূর্ততা। অর্থাৎ ভাষাতাত্ত্বিক হিসেবে শহীদুল্লাহ কীর্তিময়তাই তাকে এ অঞ্চলে খ্যাতির শিখরে পৌছাঁতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, যে পদ্ধতি অবলম্বন করেই তিনি ভাষা বিশ্লেষণ করেন না কেন, তাতেই তিনি অগাধ নৌপূর্ণ ও তাৎপর্যময় বিশ্লেষণের স্বাক্ষর রেখেছেন।  

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তার সারাজীবনের সাধনায় আমাদের মাঝে সঞ্চার করেছেন মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অপরিসীম মমতা। তিনি যেমন ভাষাতাত্ত্বিক কারণে আমাদের কাছে স্মরণীয় তেমনি বাংলা ভাষার পক্ষে লড়াইয়ের জন্যও স্মরণযোগ্য। বৈরী বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে তিনি অসমসাহসে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়েছেন এবং আরবি ও রোমান হরফে বাংলা প্রচলনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।  


আরও পড়ুন