ট্রেনের কামরার ভেতর ছাতা মাথায় যাত্রীরা!

তুলনামূলক আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের জন্য অনেকেরই প্রথম পছন্দ ট্রেন। ভ্রমণের সময় বৃষ্টি হলে ট্রেনের জানালা দিয়ে তা উপভোগও করেন অনেকে। কিন্তু ট্রেনে বসা অবস্থায় বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচতে মাথায় ছাতা ধরে থাকার ঘটনা আশ্চর্যজনক। আর এমন ঘটনা প্রায় নিত্যদিন ঘটছে ঢাকা ও কিশোরগঞ্জের মধ্যে চলাচলকারী আন্তঃনগর এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেনে।

সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, এগারসিন্দুরের অনেক যাত্রী ছাতা মাথায় দিয়ে বগিতে উঠছেন। অনেকে আবার পলিথিন দিয়ে শরীর মুড়িয়ে পানি থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। এগারসিন্দুর প্রভাতি ট্রেনের একটি বগির বেশিরভাগ যাত্রী বৃষ্টিতে ভিজেই ঢাকায় রওনা হন। এ ছাড়া বগির মেঝেতেও পানি জমে রয়েছে। এতে যাত্রীদের পা ও নিচে রাখা ব্যাগপত্রও ভিজে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, ঘোড়াশাল স্টেশন অতিক্রম করার আগ পর্যন্ত ট্রেনের পরিস্থিতি খুবই নাজুক ছিল। কামরার ছাদের এখানে ওখানে অনেক ফুটো। সেসব ফুটো দিয়ে চলন্ত ট্রেনের কামরার ভেতর অনবরত বৃষ্টির পানি ঢুকছিল। যাঁদের সঙ্গে ছাতা ছিল, তাঁরা বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচতে কামরার ভেতরেই ছাতা মেলে বসেন। যাঁদের সঙ্গে ছাতা ছিল না, তাঁরা মাথায় কাপড় দিয়ে বসেন। অনেকেই আসন ছেড়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নেন।

যাত্রীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চললেও কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বাধ্য হয়ে এভাবে কষ্ট সহ্য করে তাদের যাতায়াত করতে হয়।

এদিকে চলন্ত ট্রেনে অনেক যাত্রী ভিজে নাজেহাল হলেও এ রকম কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন ট্রেনটির তত্ত্বাবধায়ক নূর মোহাম্মদ। বগির ভেতর বৃষ্টির পানির কারণে ভিজতে হয়েছে, কেউ তাঁর কাছে এমন অভিযোগ করেননি বলেও জানান তিনি।

তবে জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ ও ওয়াগন) শাহ-সুহি-নূর মোহাম্মদ বলেন, এরই মধ্যে তথ্যটি জেনেছি। তবে এই মুহূর্তে কৌশলগত কারণে বগিগুলো মেরামত করা যাবে না। কারণ সামনে ঈদ। বগির চাহিদাও অনেক। ঈদের পর সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।


আরও পড়ুন