তথ্য প্রযুক্তি - জুলাই ২৫, ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তের আওতায় ফেসবুক-গুগল-অ্যাপল-অ্যামাজান

যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যালোচনা করার জন্য একটি বোর্ড গঠন করতে যাচ্ছে মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় (জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট)। প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা ও পরিধি নিয়ে সাম্প্রতিক সমালোচনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তারা অবৈধ পথ অবলম্বন করছে বলেঅভিযোগ ওঠার পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এক বিবৃতিতে বিচার বিভাগ জানায়, সার্চ ইঞ্জিন, সামাজিক মাধ্যমসহ অন্যান্য প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তরা যে অভিযোগ করেছেন সেগুলো খতিয়ে দেখবে ওই বোর্ড। অ্যাটর্নি জেনারেল মাকান ডেলরাহিম বলেন, যথাযথ বাজারভিত্তিক নিয়মাবলী না থাকলে এসব প্ল্যাটফর্ম এমন আচরণ করতে পারে যা গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণ করে না।  

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজন ও অ্যাপলের মতো বড় সব অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত করবে এই কমিটি।  মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ বেশ কয়েকজন সদস্য দাবি করেছিলেন এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত।

এর আগে গত সপ্তাহে ফেসবুক, গুগল এবং অ্যামজনকে প্রতিনিধি পরিষদের একটি উপকমিটিতে তলব করা হয়। তাদের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ই-কমার্স ও ক্লাউড কম্পিউটিং নিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আইনপ্রণেতারা অ্যামাজনকে প্রশ্ন করেন তারা তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতার জন্য ফি  নির্ধারিত করার ব্যাপারে একচেটিয়া আচরণ করে কিনা। ফেসবুকের কাছে তাদের প্রশ্ন ছিল, নতুন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কি তারা অন্য প্রতিষ্ঠানের ফিচার নকল বা চুরির জন্য অভিযুক্ত করে কি না।

এছাড়া চলতি মাসে ফেসবুক বৈশ্বিকভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সির ঘোষণা দেওয়ার ব্যাপারেও সমালোচনা করেন আইনপ্রেণেতারা। লিবরা নামের ওই অনলাইন মুদ্রার ব্যাপারে ওহাইওর সিনেটর শেরড ব্রাউন বলেন, সম্প্রতি বড় বড় কয়েকটি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার পরও ফেসবুক এমন ঘোষণা দিয়ে আসলে ‘অবিশ্বাস্য ঔদ্ধত্য’ দেখিয়েছে। 

ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরনের সাংকেতিক মুদ্রা। যার কোন বাস্তব রূপ নেই। এর অস্তিত শুধু ইন্টারনেট জগতেই আছে। এটি ব্যবহার করে লেনদেন শুধু অনলাইনেই সম্ভব। যার পুরো কার্যক্রম ক্রিপ্টগ্রাফি নামক একটি সুরক্ষিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। ২০১৭ সাল থেকে এটি একটি উঠতি মার্কেটি পরিণত হয়েছে।

চলতি বছর জুলাইয়ে ক্রেমব্রিজ অ্যানালাইটিকা কেলেঙ্কারির দায়ে ফেসবকুকে ৫০০ কোটি ডলার জরিমানা করেছিলো দেশট্রি কেন্দ্রীয় বাণিজ্য কমিশন। ফেসবকুকে বিপজ্জনক উল্লেখ করে ব্রাউন বলেন, ‘এটি বার বার ঘর পুড়িয়ে বলছে তারা আসলে শিখছে। আপনাদের সত্যিই মনে হয় তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিয়ে ভরসা করা যায়।

মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়,  ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বড় এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচকদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন তদন্তকারীরা। যাদের অনেকেই এমন প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলার পরমার্শ দিয়েছেন।

এই বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য জানায়নি ফেসবুক, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন কিংবা অ্যাপল।


আরও পড়ুন